| কবিতা | এক্কাদোক্কা |
| কবি | সিতাপ পাল |
| কাব্যগ্রন্থ | কথাদের চারাগাছ |
| কবিতার বিষয় | জীবনমুখী, প্রকৃতি, প্রেম, বিরহ |
মানুষের মন না বাঁধানো ফটোফ্রেমের মতো। যে ফ্রেমে ভেসে উঠে আকাশ, কুয়াশা, সবুজ গাছ, ফুলের কলি, জল, নৌকো, বৃষ্টি, ভালোবাসা। দীর্ঘদিন না কাটা নখগুলো চেয়ে থাকে শকুনের মতো। দু'তলায় বাড়িওয়ালীর মেয়ের রেওয়াজ করা কণ্ঠও ফটোফ্রেমে স্পষ্ট শোনা যায়। শুধু দুঃখগুলো লুকিয়ে থাকে মেঘের আড়ালে, ঢেউয়ের তলে, সুরের ফাঁকে। স্রোতের ধাক্কায় একটা বিশাল তিমি তীরে আঁছড়ে পড়ে। খাতা থেকে ছেঁড়া পাতাটা নিজেকে মনে করে দলছুট কেউ। অভিমান তো তাদেরও হয়!
একটা রূপচাঁদা মাছের ফুসফুস সোনালী বাবল। মাছেদের চোখ প্রেমের উপন্যাস লেখে। আকাশের নীলে পাখিরা মাঝে মাঝে পথ হারায়। মানুষের মন হারায় মনের গহীনে। পথের মনে ছায়া ফেলে যায় দূরপাল্লার বাস। ছয় চাকার ছাপ পড়া পথ কাঁপতে থাকে থরথর করে। শীতের সমস্ত সন্ধ্যা কাটে ছায়ার গায়ে চোখ রেখে। যেটুকু বিকট আওয়াজে মগজজুড়ে বিরক্তির জন্ম, তার সমপরিমাণ আদরে ভরে যায় পাখিদের মন। পথ পথের প্রেমে অন্ধ। তবু চৌরাস্তার মোড়ে পথের চোখ খুলে যায়। ধুলো উড়ে যায়, বেঁকে যায় মন। ছিঁড়ে যাওয়া নকশিকাঁথায় একটা পাখির ছবি আঁকে সে। সেই পথের মনটাকে আঁকতে চায় রোজ। সব মিলিয়ে নির্দিষ্ট জায়গাটুকুকে ঠিক একটা ফটোফ্রেমের মতো দেখায়। যে ফটোফ্রেমে হাজারটা মন এক্কাদোক্কা খেলে নিজেদের সাথে। শুধু থিতু হয়ে বসতে পারে না ছেঁড়া অংশটায়। একটা সময় শেষে সিনেমার ক্লাইম্যাক্সের মতো কিংবা ম্যাথমেটিক্সের ভাগশেষের মতো শেষ চলে আসে। অবশেষে মন বেচারা বড্ড অসহায় অথচ নাছোড়বান্দা।