তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও
তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও — আমি এই বাংলার পারের’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরেরসম্পূর্ণ
জীবনানন্দ দাশ, বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক। ৬ ফাল্গুন, ১৩০৫ (১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৯) সালে তিনি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। ব্রজমোহন কলেজ ও কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে তিনি যথাক্রমে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ইংরেজিতে অনার্স সম্পূর্ণ করেন। ১৯২৫ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘দেশবন্ধুর প্রয়াণে’ বঙ্গবাণী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তার পর, ১৯২৭ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঝরা পালক ‘ প্রকাশ পায়।
তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও — আমি এই বাংলার পারের’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরেরসম্পূর্ণ
কোথাও পাবে না শান্তি—যাবে তুমি এক দেশ থেকে দূরদেশে?এ-মাঠ পুরানো লাগে—দেয়ালে নোনার গন্ধ—পায়রা শালিখ সবসম্পূর্ণ
বেঁচে থেকে কোনো লাভ নেই,- -আমি বলিনাতো।কারো লাভ আছে;– সকলেরই;– হয়তো বা ঢের।ভাদ্রের জ্বলন্ত রৌদ্রেসম্পূর্ণ
তোমরা স্বপ্নের হাতে ধরা দাও—আকাশের রৌদ্র ধুলো ধোঁয়া থেকে স’রেএইখানে চ’লে এসো; পৃথিবীর পথে আমিসম্পূর্ণ
মাঠের ভিড়ে গাছের ফাঁকে দিনের রৌদ্রে অই;কুলবধুর বহিরাশ্রয়িতার মতন অনেক উড়েহিজল গাছে জামের বনে হলুদপাখিরসম্পূর্ণ
আকাশে সমস্ত দিন আলো;পাতায় পালকে রোদ ঝিকমিক করে;জলগুলো চ’লে গেছে চেনা পথ ধ’রেঅবিরল আরো দূরসম্পূর্ণ
বিকেলবেলার আলো ক্রমে নিভেছে আকাশ থেকে।মেঘের শরীর বিভেদ ক’রে বর্শাফলার মতোসূর্যকিরণ উঠে গেছে নেমে গেছেসম্পূর্ণ
পৃথিবী সূর্যকে ঘিরে ঘুরে গেলে দিনআলোকিত হয়ে ওঠে—রাত্রি অন্ধকারহয়ে আসে; সর্বদাই, পৃথিবীর আহ্নিক গতিরএকান্ত নিয়ম,সম্পূর্ণ
কেমন আশার মতো মনে হয় রোদের পৃথিবী,যতদূর মানুষের ছায়া গিয়ে পড়েমৃত্যু আর নিরুৎসাহের থেকে ভয়সম্পূর্ণ
শীতের কুয়াশা মাঠে; অন্ধকারে এইখানে আমি।আগত ও অনাগত দিন যেন নক্ষত্রবিশাল শূন্যতারএই দিক- অথবা অপরসম্পূর্ণ