| কবিতা | ভেনেসা’কে |
| কবি | কৌশিক মজুমদার শুভ |
ভেনেসা,
আমি এক বিষাক্ত বিকেলের গল্প জানি-
যেখানে রাস্তায় মরে যায় অনিষিক্ত প্রেম-
ভ্রূণেই ঝরে অসংখ্য না-লেখা কবিতা।
এইসব অসময়- রেস্তোরাঁয়,কফিকাফে চুমুকে অনায়াস গলে না জীবন- প্যারাফিন যেমন- মেডিকেল, গীর্জা, নার্সিং কলেজ পেছনেই চেয়ে থাকে সব- নির্লিপ্ত নির্যাস;
জীবনে হরেক ট্রাম এলে আমি চড়ে বসি না- নির্বিবাদে নেমে পড়া যায় না নাবিকের ভ্রমণে- তবু যে কলমে তোমাকে লিখবো ভেবেছি-
কনকনে শীতে জমে যায় কালি।
আমি নিরর্থক চেয়ে থাকি- এর চেয়ে বরং কাঠপট্টির পাতিহাঁসেরদের আমি সাহস নিয়ে জন্মাতে দেখেছি- এমন উদগ্র মেদ ও মাংস নিয়ে তারা সারেসারে কোমর দুলিয়ে চলে-
অথচ মারাত্মক কিছু ক্ষতিই আসে নি জীবনে- মারাত্মক জীবন, বিপ্লব- মাঝেমধ্যে মনে হয় কিছুই দেখা হলো না।
যে জরায়ু থেকে অনিচ্ছায় বিতাড়িত হয়েছি আমি- ইচ্ছে করে অন্ধকারে ঠেসে যাই সেই গহ্বরে-
পৃথিবীর বিলাসবহুল বাতাবরণে হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায় রোগীর পাশে দেখেছি টসটসে হলুদ কমলা ও যুবতীর গালের মতো টসটসে লাল আনার- যেন শুয়ে চেয়ে আছে বিলাসিন ফ্ল্যাটের গদিতে- বারবনিতা র ক্লিভেজের মতো।
তবু ফেরিঘাট, স্টেশন, সদরঘাটে বহুলোককে আমি শুকনো কিসমিসের মতো মুখ নিয়ে রাস্তায় শুয়ে থাকতে দেখেছি-
দেখেছি রুক্ষ পাগলীর রাস্তা ও চিৎকৃত প্রসব- আমার কাছে বরং মারাত্মক লাগে না কিছুই, এইসব বরঞ্চ পৃথিবীর মঞ্চে অদ্ভুত সাবলীলভাবে নাট্যায়িত হয়- দেখেছি, রাস্তায় শুয়ে-বসা মানুষের জীবনে হরতালে থেমে থাকে না বীর্যারোহণ ও বেমচকা হাঁটু বেয়ে ওঠা যৌবনের কোরাস- একবেলা জল জমে গেলে বেশ্যাপাড়ায় দেখেছি ভাতের হাঁড়িতে কারফিউ নেবে আসা-
তবু অজস্রবার এইসব বিকেলের অপস্রিয়মাণ আলো আমায় টানে-
মেডিকেল, সোনাডাঙা লেক, শ্মশানঘাট অথবা সাহেবের কবরস্থান।
আমি বারবার রাস্তায় চড়ে পায়ের পাতায় ভর করে উঠেছি উর্ধ্বাকাশে- জানি হরিণের রক্ত শরীরে নিয়ে আমি এক ধীরতর কচ্ছপ। রাস্তায় যেতে-যেতে বিহ্বল হয়ে দেখেছি স্বর্ণকমলের বারান্দায়- যেন এখনো অসময়ে দুর্গা রেলিঙ ধরে বিলাসিতার গারদে বসে থাকে- হেমন্তের ম্লান আলোর মতো মুখে।
বিলাসিতা! সেও দেখেছি অনেক- দেখেছি কুমিরের মুখে তুলে দিতে শ’য়ে শ’য়ে মাংসেরঢিবি- দেখেছি রেশমকোমল বিছানায় যুবতী নারীর টাকার উপরে কণ্টকে আকীর্ণ উল্লাস- বেমক্কা লাগে এইসব।
বরং সময় দাও এর চেয়ে ছেড়ে চলে যাই এইসব বিমর্ষ বিকেল, এইসব আকাঙ্ক্ষার হাত- তোমার লুকিয়ে দেখা আঙুল- অথবা ঘাড়ের উপরে চড়ে থাকা নির্জন স্বর্ণালি চুল-
সব ছেড়ে তবু চিন্তার বেলাভূমে ফিরে আসি- যেখানে অজস্র সাইফুল্লা-প্লাথ-গগ বিকেলের আকাশ ছুঁয়েছিলো- তারপর আশ্চর্য সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত ভুলে গিয়ে ফের ফিরে গ্যাছে- অন্ধকারে আলোহীনতায়; যেইখানে একদিন একখানি ভ্রূক্ষেপ করে পায়রার উল্লাসে- একখানা পালক ছুঁতে আকাশের পানে, আলো হয়ে উড়েছিলো এক শিশু-
অথবা কথা তারো ছিলো বলার, পৃথিবীরে অগোচরে বলে গ্যাছে- কতো, আরো বাকি রেখে গ্যাছে কিছু-
হয়তো পৃথিবীর পাখিরাই গানে গানে বলে যাবে মৃত্যুরে ফেলে গিয়ে ধীর- ফের অনন্তরে ডেকে এনে পিছু।
