কবিতা মাটির গন্ধে রক্ত আঁকি
কবি আজিজুল হক
উৎসর্গ দেশ প্রেমিকদের
লিখার স্থান কোচবিহার, পশ্চিমবঙ্গ, ভারতবর্ষ
কবিতার বিষয় আশা, জীবনমুখী, প্রকৃতি, প্রতিবাদ, প্রেম, বাংলাদেশ, বিরহ, ভারতবর্ষ, রাজনৈতিক, রূপক

শুধু আমি একাই হেটে চলেছি
ডুয়ার্সের আঁকাবাঁকা শাল- সেগুনের পাতা ঝরানো পথে।
আমার বাম দিকের বুক থেকে ততক্ষনে নেমে গেছে সমস্ত সারি সারি বৃক্ষের শেখড় গুলো।

আমার সাথে হাঁটছে জঙ্গলের ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক!
অরণ্য ভেদ করে পুব আকাশে মুখ তুলে চাইছে তখন চাঁদ।
আমি অকারণের সব ব্যাকরণ গুলি ভেঙেছুড়ে ছুঁড়ে ফেললে হেঁসে উঠে চাঁদ।

ডুয়ার্স আমায় ভরিয়ে দিয়েছে রূপে, রসে, গন্ধে,
কত ঋণ আমার ডুয়ার্সের কাছে।
ডুয়ার্স আমার নির্ভেজাল প্রেমিকা,
ডিমা কিংবা জয়ন্তীর খরস্রোতা জলের বিছানায় ফুল শ্যজ্জ্যার ছবি এঁকেছি আমরা কতবার।
সাক্ষী থেকেছে জয়ন্তী, রাজভাতখাওয়া আর বক্সার গা ছমছমে আকাশ।

শাল - শেগুনের উথাল পাতাল পথে কোন এক ডুয়ার্স রমণী
তার শরীর জুড়ে নীরবে মাখছে সকালের কাঁচা রোদ..
প্রত্যন্ত গ্রামীণ বাজারে ততক্ষনে ঘুঘুরা বেঁধেছে বাসা,
হারাচ্ছে প্রজাপতির ডানা মেলার শব্দ,
টিয়া, ময়নারা হারাচ্ছে ভাষা, পর্যায়ক্রমে গড়ে উঠা হোমস্টে গুলোতে খেলা হয় লোভাতুর চাতকের।
মেচ, রাভা কিংবা সাঁওতাল রমনীর কোলে তখন দুলতে দুলতে বাড়ি ফিরছে নিমতি কিংবা লালঝামেলার ডুবু ডুবু সাঁঝ বাতির আলো।
কোন এক ক্লান্ত অখ্যাত কবির পাণ্ডুলিপিতে জমা হচ্ছে
ধূসর শব্দের কিছু অচেনা অ্যালবাম ।

প্রেমিকযুগলেরা বক্সার চড়াই উতরাইয়ের নিঝুম আড়ালে ছবি আঁকছে দৃপ্ত আলিঙ্গনের।

জীবন যুদ্ধে পরাজিত যুবক হাহাকার সাথে নিয়ে পথ হাঁটছে বিধবা প্রেমিকার উঠোনে!
জয়ন্তী নদীর টলটলে জলে ভেসে যাচ্ছে তখন ব্যর্থ প্রেমের হাস্যস্কর প্রতিশ্রুতি,
আমি ফিরছি তখন চে - গুয়েভারার সাথে,
একা,
সঙ্গে শুধু একরাশ শূন্যতা।

guest
0 Comments
Newest
Oldest Most Voted