| কবিতা | ভবঘুরে |
| কবি | নাইমুর রহমান |
| কাব্যগ্রন্থ | মহাকালের কাব্য |
| সময় | কোনো এক বিষণ্ণ গোধূলিলগ্নে |
| উৎসর্গ | সেই আমিকে, যাকে আজও খুঁজে ফিরি। |
| লিখার স্থান | বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা |
| সম্পৃক্ততা | নিজের ভেতরের অদৃশ্য ভবঘুরে সত্তা-কে। |
| কবিতার বিষয় | বিরহ, মৃত্যু, যুদ্ধ |
ভবঘুরে
সে কোনো রাস্তার নাম জানে না,
তবু প্রতিদিন হাঁটে।
পথ তাকে ডাকে না,
তবু পা থামে না—
যেন দাঁড়ালেই
ভেতরের কিছু ভেঙে পড়বে।
তার ভবিষ্যৎ-
আলোয় লেখা হয়নি,
কালো কালি দিয়ে আঁকা।
কিছু প্রশ্নচিহ্ন,
যাদের উত্তর দিতে দিতে,
সে ক্লান্ত।
সে প্রেম করতে চায়—
কিন্তু ভালোবাসা মানে কী,
এই শহর তাকে শেখায়নি।
সে শুধু জানে,
কাউকে জড়িয়ে ধরার আগে-
নিজের বুকটা ঠিক করতে হয়।
দিনভর সে অনশনে থাকে—
ক্ষুধার নয়,
একটু মাথা রাখার জায়গা খোঁজে,
যেখানে কেউ বলবে না—
“এত ভাবিস কেন?”
সবকিছু চলছে,
ঠিকঠাক চলছে।
শুধু সে নিজে,
কোথাও পৌঁছাচ্ছে না।
পড়াশোনা আছে,
খাওয়া আছে,
রাতও আসে।
কিন্তু তার ভেতরের ঘরে,
একটা চেয়ার ফাঁকা—
যেটাতে কেউ বসে না।
তার কথা আছে,
অজস্র কথা।
কিন্তু সে জানে—
সব কথা বলা যায় না,
কিছু কথা শুধু শোনার মানুষ চায়।
এই জ্ঞানটাই-
তার সবচেয়ে বড় দারিদ্র্য।
রাতে সে হাঁটে।
কারণ রাত প্রশ্ন করে না।
অজানা পথে যায়,
কারণ গন্তব্য থাকলে-
হিসেব দিতে হয়।
সে হিসেবের মানুষ নয়—
সে অনুভূতির অতিরিক্ত বোঝা।
প্রকৃতি তাকে চেনে।
আকাশ তার নাম জানে,
বাতাস তার দীর্ঘশ্বাস বোঝে,
গাছেরা নীরবে দাঁড়িয়ে থাকে—
যেন বলছে,
“থাক, আমরা আছি।”
সে সবার প্রতি নরম।
কারণ কঠোর হতে গেলে,
ভেঙে যেতে হয়।
কেউ কিছু বললে
সে শুধু বলে—
“দুঃখিত।”
এটা তার দুর্বলতা নয়,
এটা তার ক্লান্তি।
তার অন্ধকার-
তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু।
কারণ অন্ধকারে-
সে ব্যর্থ নয়,
অপর্যাপ্ত নয়,
ভুলও নয়।
অন্ধকার তাকে যেমন,
তেমনই গ্রহণ করে।
সে ভবঘুরে।
হারিয়ে যায়নি—
বরং নিজেকে খুঁজতে খুঁজতে,
অন্য সবার থেকে-
একটু দূরে চলে গেছে।
আর এই দূরত্বটাই-
তার ঠিকানা।
(নাইমুর রহমান)
কল্পনার জগতের গল্পকার—