কবিতা ​অদৃশ্য সুতোর বুনন
কবি মেহেদী হাসান অপু
কবিতার বিষয় জীবনমুখী, প্রেম, রূপক
Review This Poem

মহাশূন্যের কোনো এক হিমশীতল শূন্যতায়
যখন আমার প্রাণের প্রথম কণাটি কেঁপে উঠেছিল,
তখন কোনো শব্দ ছিল না, ছিল না কোনো আলো—
শুধু ছিল একটি অন্ধকার উষ্ণতার জঠর,
সেখানে প্রথমবার আমি চিনেছিলাম ‘মমতা’ নামক এক আদিম আশ্রয়।
​মা, তুমি তো কেবল রক্ত-মাংসের এক শরীর নও,
তুমি হলে এক অদৃশ্য সুতোর বুনন—
যা মহাকালের ঘড়ি উল্টে দিলেও ছিঁড়ে পড়ে না।
আমার কান্নার প্রতিটি কম্পাঙ্ক
তোমার হৃৎপিণ্ডের দেয়ালে গিয়ে যখন ধাক্কা খায়,
তখন বিজ্ঞানের সব সমীকরণ হার মেনে যায়;
কারণ ঈশ্বর সেখানে কোনো ভাষা দেননি, দিয়েছেন শুধু এক অলৌকিক অনুভূতি।
​তোমার হাতের স্পর্শে আছে সেই জাদুকরী রসায়ন,
যা লোনা জলের অশ্রুকে এক নিমিষেই
শান্ত দিঘির স্থবিরতায় বদলে দিতে পারে।
আমি যখন পৃথিবীর ধুলোয় লুটিয়ে পড়ি অপমানে,
তখন তোমার আঁচল হয়ে ওঠে এক অভেদ্য বর্ম—
যেখানে জং ধরা সময়ের সব আঘাত এসে থমকে দাঁড়ায়।
​তুমি হচ্ছো সেই চিরন্তন বৃক্ষ,
যার ছায়া রোদ চেনে না, চেনে না কোনো ঋতুর পরিবর্তন।
মমতা মানে কেবল চুমু কিংবা দুপুরের ঘুমপাড়ানি গান নয়,
মমতা হলো তোমার চোখের সেই নীরব প্রার্থনা—
যা আমার অজান্তেই আমার চারপাশের বাতাসকে পবিত্র করে রাখে।
​পৃথিবীর সব ব্যাকরণ ফুরিয়ে গেলেও,
‘মা’ শব্দের কোনো সমার্থক শব্দ খুঁজে পাবে না কোনো অভিধান।
এই মহাবিশ্বের অন্তিম লগণেও যদি কোনো আলো অবশিষ্ট থাকে—
তবে সে আলো তোমার ওই মমতারই এক একটি অবিনশ্বর কণা;
তুমিই আমার আদি, তুমিই আমার অন্ত,
আমার অস্তিত্বের মানচিত্রে তুমিই একমাত্র ধ্রুব নক্ষত্র।

guest
0 Comments
Newest
Oldest Most Voted