| কবিতা | অনুভূতির অলিখিত পাতা |
| কবি | প্রসূন গোস্বামী |
| কবিতার বিষয় | বিরহ |
শহরের ধুলো জমা কাচের জারে
তোমার কবিতার শব্দেরা ঘুমায়;
হেলাল, তুমি কি শুনতে পাও?
একটা টিনের চায়ের কেটলি ফুটছে—
বহু দূর থেকে তার সিস্ সিস্ সুর
যেন "প্রস্থান" কবিতার
অন্তিম পঙ্ক্তির চিৎকার।
কাঁচের আলমারির সামনে রোদে পোড়া বিল্টু
মনে মনে পড়ছে,
ক্লাস সিক্সের টিফিন ব্রেকের
চুরি করা জাম খাওয়ার কথা,
তার ঠোঁটের ফাঁকে সেদিন ছিল
তোমার "অচল প্রেমের পদ্য"-এর একখণ্ড
চুইয়ে পড়া বর্ণমালা।
ভাঙা হ্যারিকেন, আধপোড়া ঘি-দেওয়া সলতে
আলোকিত করছে
মেয়াদোত্তীর্ণ প্রেমপত্রের স্তূপ।
তোমার কবিতার ভাঙা সুর
ছেঁড়া পাতার উপরে ছায়া ফেলে,
"ফেরীঅলা" এর মতো
মৃত সময়ের গায়ে আঁচড় কাটে।
রাস্তার মোড়ে কাগজে মোড়া মুড়ির ঠোঙা
ধুলোয় লুটিয়ে পড়ার আগে
শুনে গেছে তোমার 'একটি পতাকা পেলে' স্বরের গল্প।
হেলাল, কারা যেন বলেছিল
এই শহরেই প্রেম ও বিপ্লব জন্মায়,
তোমার কলমে কি তাদেরই
মৃত্যুবার্ষিকী লেখা হয়েছে?
ফুটপাতের পুরোনো বই বিক্রেতার সামনে
একটি কালো নোটবুকে
লাল কালির আঁচড় কেটে
তোমার কবিতার কিছু পঙ্ক্তি লেখা;
কিন্তু কোনো পাঠক জানে না
সেই কবিতায় বিষাদ ছিল নাকি
হাসির এক গভীর কৌতুক।
সন্ধ্যার বিষণ্ণ ট্রেনের স্টেশন
যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল
একটি মুখ—তোমার প্রথম কবিতার
বাড়ির জানালার মতো স্বচ্ছ,
আর লোহার বেঞ্চে লেখা—
"এই শহরে কবিতা হয় না।"
শেষে, দোকানের কোণে একটি পুরোনো খাতা
যার পাতায় ছেঁড়া কালি জমা;
তোমার জীবন এবং আমারও,
নাম-যশ, সবই তো ক'দিনের বাদ্যি,
তারপর শুধু ছেঁড়া খাতায় কালি।
হেলাল, তুমিও তাই, আমিও তাই,
দোকানের কোণে পুরানো হিসাবের খাতা।
এক কাপ চা, আর কিছু পুরোনো স্মৃতি,
এই নিয়েই তো আমাদের কবি জীবন,
যেন বাঁধানো এক মলাটবিহীন বই।