| কবিতা | ঈশ্বরের অভিসারে |
| কবি | আজিজুল হক |
| সময় | ২৩/৬/২৩ |
| লিখার স্থান | কোচবিহার ,পশ্চিম বঙ্গ |
| কবিতার বিষয় | অন্যান্য, জীবনমুখী, প্রেম, মৃত্যু, রূপক, স্বাধীনতা |
“যখন আমার ইন্তেকাল হবে ,
তখনও পৃথিবী টা ঠিক এরকমই হয়ে থাকবে,
সচল থাকবে বাজার হাট,
অফিস আদালত,
স্কুল ,কলেজ
তুমিও!
শুধু আমি নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়বো কবরে।
তা বলে তুমি ভেবো না
পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাচ্ছি আমি!
তফাৎ তো শুধু সাড়ে তিন হাত মাটির পর্দা!
আমি তোমার চোখে সেদিন জল দেখতে চাই না,
তুমি আমার শব দেহে ফুল দিতে আস,
আমি চাই না সেটাও!
আসলে অবসাদ গুলো কে মুক্তি দিতেই আমি আপাতত নিদ্রা যাচ্ছি।
আমার দুঃখ গুলো , আমার স্পর্শ গুলো রেখে যাচ্ছি ব্যালকনিতে ,
কেন না আমি কোনো অন্তহীন সমুদ্রের অতল গভীরে হারিয়ে যাচ্ছি না!
চারজন সওয়ারীর কাঁধে আমার শব দেহ যখন পৌঁছবে
কবরের একপাশে,
জানাজা হবে হয়তো..
তারপর সে দেহ কত আদরে কবরে শুইয়ে দেবে ,
যাতে আমি বিন্দু মাত্র কষ্ট না পাই!
অথচ বেঁচে থাকতে কত কষ্টই না দিয়েছ তুমি আমায়!
আমার জন্য হয়তো সেদিন কেউ চোখের জল ফেলবে,
আমি সব দেখতে পাব,
তারপর মাটির চাদরে আমার দেহ টা ঢেকে দেয়া হবে।
আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি
সবাই ধীরে ধীরে ফিরে আসছে আমায় কবরে রেখে নিজেদের গন্তব্য দ্রুত পৌঁছতে হবে বলে.
তুমি কেঁদোনা কিন্তু সেদিন,
আমি হারিয়ে যাচ্ছি না কোথাও,
আমি শুধু সেদিন তোমার অনন্ত প্রেমের সূরায় ডুব দিয়েছি মাত্র।
তুমি দেখো,
কবরে আমি জেগে উঠছি,
জেগে উঠছে আমার সমস্ত সত্তা,
আমি তখন ঈশ্বরের সামনে,
ঈশ্বর আমার মুখোমুখি,
কি অদ্ভুত ,তাই না!
আমি ঈশ্বরের কাছে তোমার সওগাত পৌঁছে দিচ্ছি,
তিনি হাত পেতে নিচ্ছেন সেই সওগাত ,
বিচারাধীন প্রেম ,গণতন্ত্রে ক্ষমতার আস্ফালন ,
সৌন্দর্যের অহমিকা ,
সব যেন আজ চন্দ্র মাসের অববাহিকায় নিমজ্জিত !
এখানে সূর্য কথা বলে,
চাঁদের সঙ্গে প্রেমের কথোপকথন,
স্মশানের ঝলসে যাওয়া মানুষটাও কবরের মানুষের সঙ্গে নিজের ভেদাভেদের সীমা রেখা টানে না..
অনন্ত প্রেমে সেখানে তারা ঈশ্বরের বাগানে ক্রিকেট ,ফুটবল ভালোবেসে খেলে!
তুমি কি কখনো বলতে পারবে ?
মাটির ভিতরে পুঁতে দেয়া বীজ
কোনোদিন নুতন ভাবে জন্মায়নি?
তাহলে তুমি কেন মিছেই ভাবছ আমি বীজ থেকে মহীরুহ হয়ে ফিরে আসব না?
আবার তোমার হাতে হাত রেখে আমি ঈশ্বরের কথা গুলো তোমায় বলব না!
তুমি কখনো বলতে পারবে?
তোমার দেহের অন্ধকারে বপিত বীজ তোমার অজান্তেই শিশু হয়ে ফিরে আসে না?
তাহলে তুমি কেন ভাব কবরের সুদৃশ্য ঢাকনা ভেদ করে আমি আবার নুতন করে তোমার কাছে ফিরে আসবো না?
চোখের জল এবেলা না হয় তুলে রাখ ,
আমাদের আরও একবার দেখা হওয়ার আনন্দে,
দুবাহু ডোরে কাছে টেনে নেবার আনন্দে সে জল যেন জন্ম দেয় নুতন এক ভবিষ্যতের!
ঠিক যখন তুমি শেষবার আমার বুকে মুখ গুঁজে শ্বাস প্রশ্বাসের আস্তরণে আমাদের পৌঁছে দেবে নিস্তব্দ এক মুকলুকাতে,
সেখানে অবহেলা নেই, হারিয়ে যাবার ভয় নেই ,
মৃত্যু বলে কিছু হয় না ,
আসলে প্রিয় মানুষের প্রেমে বেঁচে থাকাই আর এক পৃথিবীর অভিমুখের সংঘাত কে উন্মোচিত করা,
সে কবর তো বেঁচে থাকতেও কতবার আমাদের চেপে ধরেছে আমাদের মিথ্যাচারিতায়,বিবেকের আত্মহননের প্রতিটি মুহূর্তে !
আজিজুল হক
২৩/৬/২৩