কবিতা মায়াবী ব্যথা
কবি আহাম্মেদ জিসান
3/5 - (2 votes)

এ আর এমন কি ? রোজ ঘটে –
রাতের ঘুম- দুপুরে অলসতা – বিকেলের আড্ডায়
হাতে সিগারেট, বুক ভরা ধোয়া আর চায়ের কাপ
প্রচন্ড মাথা ব্যথা অথবা খুশিতে
রাস্তায় হেটে যাওয়া রমণীতে
কোন প্রিয় যায়গা- প্রিয় ফুল – প্রিয় ঘ্রাণে
অচেনা শহরে – মনে পরে।

আমি ভাবি সেই রমণীরে – নয় সে সুভা
নয় বনলতা – অপরূপ কেউ জন
ডাকি অন্দ্রিলা তারে।

এখন গভীর রাত –
জোরেশোরে বাজিছে কুকুরের হাক-ডাক
তার দেয়া আমার কোন নাম না থাকা সুরে,
প্যাঁচারা গাইছে গান।
প্রেমাতাল আমি প্রেমিকার অপেক্ষায় –
নয় সে ভ্রম, রোজই আসে হালকা ঘুমে
গভীর ভাবে হচ্ছে আলোচনা
যাচ্ছে চলে শেষে – নিরুদ্দেশে
এক অনুতাপ আর হাহাকার রেখে।

ডাকি তারে রুক্ষদেবী – জাদুকরী
রূপ নয় – এক মোহে বাধা আমি
চলে যেতে চেয়েও হচ্ছেনা যাওয়া
কিসের যেন টান ও মায়া
কিছুটা পেলেও পড়ত না খরা
তবে সে চায় না ঘোর বর্ষা
দোষ কি তাতে ? এমনি সে ; আমিই বোকা প্রেমিক
জেনে শুনে ফাঁসির দড়ি পড়ছি গলায়
লাগছে কিন্তু বেশ।

কি নির্লজ্জ আমি – লজ্জাহীন ভালোবাসায় অনুতপ্ত
উত্তাপে জ্বলেপুরে ছাই – এখন আমার কিছু হারানোর নাই
তবু আছে। রোজই পুরে যাই, ভাবি এতো জ্বালানি কোথা থেকে পাই
তাই ভালোবাসাকেই পোড়াই ; হচ্ছে না শেষ বাড়ছে খুব বেশ
অবহেলা যুক্ত হচ্ছে সাথে ।

তবে এ আর নতুন কি-
হচ্ছে রোজই- ঘুম থেকে উঠে চায়ের কাপে
সিগারেটের টান অথবা ব্রক্ষ্মপূত্রের স্রোতে
হালকা শীতেও কল্পণাতে – কীবোর্ডের ট্যাপট্যাপ শব্দে
হাতের কলম অথবা গানের সুরে,
প্রতিটা মুহুর্তে ভাবি সেই রমণীরে
নয় সে কল্পণা – অবাস্তব আল্পণা
বাগানের সবচেয়ে সুন্দর ফুল
না ঝড়া বকুল; লাল টকটকে জবা
অথবা ভোরের উষ্ণতা;
কংক্রিটের শহরে এক মাত্র ছন্দ-
হাজার বছরের মহাকাব্য
আমার গল্পের রমণী –
না সে বনলতা না সে রূপা
তার চেয়েও ছন্দময়ী
অন্দ্রিলা সে।

আমি এক বোকা প্রেমিক;
ঝড়ে পড়া এক পাতা হয়ে
রাত্রী ভালোবেসে; অমাবস্যায় চাঁদকে ভেবে যাই,
তাই অনুতাপের উত্তাপে; ভালোবাসার চাপে
রোজ রোজ পিষে যাই।

guest
0 Comments
Newest
Oldest Most Voted