বাংলা কবিতা, সিগারেটের আগুনে জ্বলন্তভাষা কবিতা, কবি তিলক দাস | কবিতা অঞ্চল
কবিতা সিগারেটের আগুনে জ্বলন্তভাষা
কবি তিলক দাস
সময় রাতঃ১:৩১ মিঃ / তাং-১৪/০২/২০২০
লিখার স্থান মোঃ হাঃ সোসাইটি, মোঃপুর ঢাকা
5/5 - (1 vote)

আমি নিজেই একটা প্রশ্ন তদ্রূপ আপনিও একটি প্রশ্ন
সুতরাং উত্তর নিজেরটা খুঁজুন অন্যেরটা কখনো নয়,
আমি আজো আমার উত্তর খোঁজে পাইনি শত চেষ্টায়
আপনাকে নিয়ে তাই মাথাব্যথাও নেইনি কখনো,
জীবনের বিশাল আর অচিন মানচিত্রে হেঁটেছি কেবল
কেবল নিজের উদ্দেশ্যকে খুঁজে হাজার কিলোমিটার,
সেখানে দেখেছি স্পীড ব্রেকার আর জ্যামের চৌরাস্তা
দেখেছি মনভাঙ্গা কোনো এক পথিকের প্রতিচ্ছবি,
দেখেছি প্রেমের অতল গভীরে হারিয়ে যাওয়া প্রেমিক
প্রেমিকের কান্নার সাথে উপলব্ধি করেছি হারানো প্রেম,
সেখানে মাতাল প্রেমিকের উদ্দেশ্যহীন যাত্রা দেখেছি
প্রেমিকার বিদায়ে দেখেছি সিগারেটের আগুনে জ্বলন্তভাষা,
দেখেছি মায়ের আচলে সন্তানের লাশ নীরব চোখে
অনুভবে ছিল সন্তান হারানো এক মায়ের কান্নার কবিতা,
আমি কখনো কাউকে প্রশ্ন করিনি কেবল দেখেছি পৃথিবী
দেখেছি অগ্নিকুণ্ডে পুড়ে যাওয়া হৃদয়ের বেঁচে থাকার আর্তনাদ,
তবু প্রশ্ন করিনি কাউকে করেছি শুধু নিজেকে হাজারো বার
চিন্তারাজ্যের কারাগার থেকে বহুবার নিজেকে চেয়েছি বাঁচাতে,
বের হতে পারিনি আমি কারণ আমাকে তখনো চিনতে পারিনি
এতটা অচিন মানুষ দেখিনি যতটা নিজেকে দেখেছি বারবার,
শুনেছি মানুষ মানুষের মাংস খায় কুকুর নাকি কুকুরের মাংস খায় না
মনুষ্য জীবন কি তবে প্রশ্নের সম্মুখীন প্রশ্ন জেগেছে মনে,
তবু কাউকে প্রশ্ন করিনি কারণ নিজেই হয়ে আছি অচিন মানব
তবু প্রশ্ন করিনি ঘুমন্ত পৃথিবীর বুকে জেগে থাকা নিস্তব্ধ রাতকে।
প্রতিনিয়ত যুদ্ধ টিকে থাকার যুদ্ধ যুদ্ধমনে নিজেই তো বিধ্বস্ত
রেলস্টেশনে কিংবা ফুটপাতে ঘুমানো মানবকুলে হাজারো লাখো স্বপ্ন,
জানতে চাইনি কেন পূরণ হয়নি হচ্ছেনা এতসব স্বপ্ন স্বপ্নের প্রভাতসূর্য
আমি কি মানুষ নাকি অন্যকিছু যেখানে ইতিহাস বলে কিছু নেই নাকি আছে,
নিজের কাছে নিজেই অপরিচিত ইতিহাসের ক্ষতবিক্ষত অলিগলি
তবু প্রশ্ন করিনি আমি উত্তর খুঁজিনি মানবের মানবতাহীন জমিনে,
আমি মৃত্যুকে প্রশ্ন করিনি কেন তুই আমাকে নিয়ে খেলেছিলি
আটাশ বছর ধরে সাহস করিনি সেই ভয়াবহতার বুকে প্রশ্ন করতে,
কিডনিরোগে আক্রান্ত সেই শিশুর কি অপরাধ ছিল সেদিনের তারিখে
কি ভুল ছিল চতুর্থ-পঞ্চম শ্রেণির সেই ছোটবেলায় প্রশ্ন করিনি কখনো,
কেন ছয়ঘন্টা পরপর তাকে ইঞ্জেকশনের ঘাই খেতে হয়েছিল একুশবার
কেন খাদ্যগ্রহণে নিয়মতান্ত্রিক ছিল সেই শৈশবকালের ছেলেটির,
মায়ের চোখে অশ্রুকাব্য দেখেছিলাম বাবার চোখে অঘোষিত যুদ্ধ
তবু প্রশ্ন করিনি ঈশ্বরের দুনিয়ায় প্রশ্ন করিনি মৃত্যু হতে ফিরে আসা নিজেকে,
অথচ আজ পৃথিবীতে মানুষ নিজেকে নয় অন্যকে প্রশ্ন করে
নিজেকে প্রশ্ন করুক তো ঘুরে আসুক একটিবার তার দুখের নগর,
সেখানে কতটি প্রশ্ন আছে প্রশ্নের উত্তরগুলো কোথায় খুঁজে দেখুক
সাহস করেনা করবেনা অধিকাংশ মানুষ কারণ ওখানে শূন্যখাতা,
শূন্য ডানে নেই তাই মূল্যহীন তবে জীবনের অংকে শূন্য তবু মূল্যবান
শূন্যকে শূন্যতাবোধে কি বেঁধে রাখা যায় নাকি এ পাগলের প্রলাপ,
যদি তাই হয় তবে আমি কি পাগল নাকি মানুষের ছদ্মবেশে শুধু একটি প্রাণ
নির্জীব প্রাণের সজীবতা কোথায়, জানে কেউ কেউ কি জানে উত্তর!

guest
0 Comments
Newest
Oldest Most Voted