| কবিতা | নতুন কাঠ পেন্সিলের গন্ধে |
| কবি | তিলক দাস |
| সময় | রাতঃ ০২: ১৮ তারিখ- ০১/০২/২০১৯ইং |
| লিখার স্থান | মোঃ হাউজিং সোসাইটি,মোঃপুর,ঢাকা |
নতুন কাঠ পেন্সিলের গন্ধে স্মৃতিগুলো হৃদয়ে জেগে উঠে
বাবার শ্রুতলিপিতে গড়ে উঠা একটি একটি অক্ষর মিলে শব্দের সৃষ্টি,
শব্দের মিশ্রণে বাক্য তৈরির অনুভূতিগুলো ছিল আনন্দের
কখনো বা একটু ভয়ের সাথে প্রশ্ন করেছি,
বাবা ঠিক আছে তো?
ভুল হলে তার মাশুল দিতে হতো রাবারের করুণ ঘষাতে
কখনো বাবার ধমকের সাথে কেঁপে উঠতো হৃদয়ের কেন্দ্রবিন্দু,
বাবা নতুন কাঠ পেন্সিল নিয়ে আসতেন দু’ভাইয়ের জন্য
যমজভাই ছিলাম বলে লেখাপড়াটাও একই সাথে হতো দুজনের,
সাদা কাগজের নিচে রুলটানা কাগজ আর বাবার মুখের শব্দাবলী
লিখে যেতাম দু’ভাই একইভাবে তবে একটি প্রতিযোগিতা ছিল,
কার লেখা সরলরেখায় যেতো আর কার হতো বক্ররেখায় উপস্থিত
তবে সেই যুদ্ধে আমি জয়ী হতাম আর ভাই হেরে যেতো সর্বদা,
ব্যস্ বাবার বকা, কিরে তুই কি ঢাকা টু লন্ডন যাচ্ছিস নাকি?
হেসে উঠতাম মনেমনে কিন্তু হাসিতে তালা মেরে রাখতে হতো
কারণ আমার ভাই লেখাপড়ায় আমার চে ভালো ছিল অনেকটাই,
জানতাম অন্যান্য বিষয় পড়াকালে বেশি বকা শুনতে হবে আমাকে
তাই সেই বকাঝকার পাহাড় আমার উপরই ১৪৪ধারা জারি করতো।
নতুন কাঠ পেন্সিলের গন্ধে যেন আটকে আছে কত না বলা কথা
মায়ের পরিচালনায় পড়ালেখা করতে বেশি ভালো লাগতো আমার,
মা বকাঝকা করলেও বাবার চেয়ে পিট্টিটা অনেকাংশেই কম দিতো
ভালোবাসায় মায়ার বাঁধনে মা জড়িয়ে রাখতো তার স্নিগ্ধ আচলে,
কখনো কখনো মাও পিট্টি দিতো তবে তাঁর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে
তবে তাঁর লেখানো বা পড়ানোর পদ্ধতিটা আমার বেশ ভালো লাগতো,
পেন্সিল শার্পনার না থাকলেও মা ব্লেড দিয়ে শার্প করে দিতো পেন্সিল
পুরনো দিনগুলোর পাতায় এক অসাধারণ মিষ্টতা আজো অনুভব করি,
বড়দা ছোটবেলা থেকেই বরাবর মেধাবী ছাত্রের পরিচয় বহন করতো
আজ অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী তবু স্মৃতির পাতায় সেও জড়িয়ে আছে।
নতুন কাঠ পেন্সিলে আজ নিজে নিজের সন্তানকে লেখাতে বসি
আর ভেবে যাই একসময় আমিও তারই মতো ছোট ছিলাম,
সেও আজ তার পছন্দের কাঠ পেন্সিল দিয়ে লিখতে ভালোবাসে
শৈশব কৈশোর কাটিয়ে নিজের ছেলের মাঝেও স্মৃতি কথা বলে,
এই নিয়মতান্ত্রিক পৃথিবীতে মনের আড়ালে স্মৃতিরাও মৃত্যুহীন
ওরাও বালুচর হতে জেগে উঠে কোনো স্রোতস্বিনী নদীর মতো,
হৃদয়ের পাতায় কলমের কালি থাকেনা থাকে স্মৃতির বাগান
মানুষ হারিয়ে যায় কালের কঠোর সময়ের মাঝে স্মৃতি থেকে যায়,
পেন্সিলে লেখা মুছে ফেলা যায় কিন্তু স্মৃতি মুছে ফেলা বড়ই কঠিন
তবু কত রঙিন পেন্সিলে লিখেছি তার হিসেব নেই মনের মাঝে।