কবিতা শপথ
কবি সুজিত কুমার ভৌমিক
কাব্যগ্রন্থ রশ্মিছটা
সময় ১৬ই অক্টোবর,২০২৪
উৎসর্গ সুকুমার ভৌমিক
লিখার স্থান ঝাড়খণ্ড
সম্পৃক্ততা জীবনমুখী, প্রতিবাদ
কবিতার বিষয় অন্যান্য, জীবনমুখী, প্রকৃতি, প্রতিবাদ, রাজনৈতিক, সমসাময়িক

শপথ
***************
সুজিত কুমার ভৌমিক
*********************
আমি তখন হরিণীর মত,
ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম মেলার,
প্রাঙ্গণে প্রাঙ্গণে, বয়ে যাওয়া
তটিনী বা মুক্তমনা স্রোতস্বিনীর মতো।
নদীর বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার সময়,
রাশি রাশি জলরাশি যেমন,
বন্ধুত্বের আবরনে হাসতে হাসতে,
ছুটে আসে কোন কিছুর আর্বতনে,
আমিও উন্মুক্ত বিহঙ্গের মতো
ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম এক অনাবিল আনন্দে।

প্রত্যেকে কত খুশী দেখাচ্ছিল।
কেউবা প্রেমের মরাল মরালীর
মায়াজালে একে অপরের দিকে
আড়চোখে শত শত শব্দকে নিস্তব্ধ
ভাষার বন্ধনীতে পাখির বাসার
বাস্তবতায় সাড়া জাগানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

কেইবা বৃদ্ধা মা বাবাকে শ্রবনের মতো,
বাহনকে বাহিনী করে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

কেউ আবার নতুন সংসারের গন্ধে,
মাতোয়ারা হয়ে জীবন জীবিকার তাগিদে
কোন এক মঙ্গলকাব্যের গান গাইছে।

কিন্তু সত্যি কী সবাই আনন্দে আছে?

আমি সাহিত্যের চশমা পরে নিলাম।
এ আমি কী দেখি?
ওখানে ওরা কারা বসে হাত পেতে আছে?
মলিন পোশাকে, সূর্যে পোড়া তামাটে
বর্ণে নোংরা জীর্ণ শীর্ণ বিদীর্ণ বদনে?
এরা কী সুখে নেই?
আনন্দের ধারা কী এদের কাছে আসে নি?
যেখানে ওরা বসে আছে,
অসীম দৃষ্টি পৌঁছোতে পারে নি এমন
জায়গা অবধি আলোর রোশনাই
উত্তেজিত আলোকবর্তিকাকে সূচিত করছে।
এর পেছনে লক্ষ লক্ষ টাকা
বিসর্জন তো হয়েছেই!
কিন্তু এদেরকে নিয়ে ভাববার কে আছে?
সাদা ফাঁকা ফাঁপা মুখ নিয়ে করুন
অশ্রসজল দৃষ্টিতে ওরা বলে উঠছে--
"বাবু কিছু খাবার দেবেন!
আজ কতদিন আমরা ভালো করে
খেতে পর্যন্ত পাইনি।"

আমি আমার আনন্দকে লাগাম দিলাম।
আস্তে আস্তে এগিয়ে গেলাম,
কোন এক মহাকাব্যের চরিত্রের মতো।
অনিচ্ছা সত্বেও ওই পাঁচজনকে
নিয়ে গেলাম পাশের একটি খাওয়ার দোকানে।
কিনে দিলাম মশলা মুড়ির মোড়ক।
সে কী আনন্দ তাদের!
গ্রোগ্রাসে গিলতে লাগল কোন এক
জংলী বহুদিন অভুক্ত জানোয়ারের মতো।

আমি দান করলাম মাত্র একশত টাকা।
কিন্তু তাতেই আমি যেন হয়ে গেলাম
কোন এক মাটির ভগবান।
অথচ দান করেছি লক্ষ লক্ষ টাকা কত
মন্দিরে, পূজো কমিটিতে কিম্বা সংঘের
সম্মিলিত সম্মিলনী সংহতিকরণের নেশায়।
কোথায় এত আনন্দ তো পাই নি?
তাহলে আজ কেন এত আনন্দধারা আমার
চিবুক বেয়ে চাবুকের মতো ঝরে পড়ছে?

আমি শপথ নিলাম,
এঁদেরই এবার সেবা করব,
এঁদেরই সাহায্যে এগিয়ে আসব কারন-
মনুষ্যত্বের বাঁধন যদি,
হয়ে যায় আজ মলীন।
সব কাজ হবে অবলা অসাড়,
বৃহৎ হয়েও ক্ষীন।

guest
0 Comments
Newest
Oldest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments