| কবিতা | কলম ও ক্লান্তি |
| কবি | শ্রেয়া পাল |
| সময় | ১১.৪৩ রাত ২০২৬ |
| লিখার স্থান | কালিয়াগঞ্জ |
| কবিতার বিষয় | প্রকৃতি, প্রেম, বিরহ |
চিরকাল মানুষের দেওয়া কষ্টগুলোই
আমার কবিতার জন্মদাতা-
প্রতিটা আঘাত যেন শব্দ হয়ে
কলমের ডগায় এসে বসে।
তখন নিজেকেই প্রশ্ন করি-
আমি কে?
কী আমার কাজ?
এই বিশাল প্রকৃতি আমার কাছে
ঠিক কী প্রত্যাশা করে?
এক বিকেলে, মনভরা বিষণ্ণতা নিয়ে
ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে ছিলাম-
হাওয়া এসে ছুঁয়ে গেল,
আর মনে হলো, সব ছেড়ে দিয়ে
দূরে কোথাও হারিয়ে যাই।
ঠিক তখনই একঝাঁক পাখি
আকাশ চিরে উড়ে গেল-
আমারও ইচ্ছে হয়েছিল তাদের মতোই
ডানা মেলে চলে যাই…
কিন্তু পারিনি।
মানুষ তো-
শেকড়গুলো খুব গভীরে বাঁধা।
সন্ধ্যা নামলে জানালার ধারে দাঁড়িয়ে
সামনের বাড়িটার দিকে তাকাই-
তার জানালায় একটুকরো ফুলগাছ,
অদ্ভুতভাবে আপন লাগে।
মনে হয়, সেও আমার মতোই-
একাকী, একটু অবহেলিত।
ইচ্ছে করে তাকে কাছে এনে-
আদরে ভরিয়ে দিই,
কিন্তু দূরত্বের অদৃশ্য দেয়াল-
আমাকে থামিয়ে দেয়।
তাই বিছানায় শুয়ে শুধু ভাবি-
যদি একবার ছুঁতে পারতাম!
পৃথিবীর পশু-পাখিদের দেখি-
কত সহজ তাদের বেঁচে থাকা,
না কোনো ভয়, না কোনো হিসেব।
তখন নিজেকেই অচেনা লাগে-
মানুষ হয়ে এত জটিল কেন আমরা?
ভেতরটা ক্লান্ত হয়ে পড়ে,
মনে হয়-
আমার দেওয়ার মতো কিছুই নেই।
তবুও কিছু অনুভূতি রয়ে যায়-
সূর্যমুখীর মতো,
একটুখানি আলোর অপেক্ষায়
ফুটে ওঠার জন্য উদগ্রীব;
কিন্তু সেই আলো-
সবসময় পাওয়া যায় না।
এত মনখারাপের মাঝেও দেখো-
আমি এখানেই আছি,
তোমার খুব কাছে দাঁড়িয়ে,
হাতে একটি কলম-
কবিতা লিখছি।
কালি হয়তো ফুরিয়ে যাবে,
কিন্তু এই কবিতা-
অসম্পূর্ণ থাকবে না ।
১৮.০৪.২০২৬ ( ১১.৪৩ রাত শেষ করলাম )