| কবিতা | দেখা অদেখা কাব্য ৩ |
| কবি | সোয়েব মাহমুদ |
| কাব্যগ্রন্থ | আড়াইতলা সিঁড়িঘরে ব্যক্তিগত নিঃশ্বাস |
| সময় | জানুয়ারি ২৩, ২০১৬ |
| লিখার স্থান | শাহবাগ |
রিকশা কিংবা বিছানার বামপাশটায় অথবা হৃদয়ের বাম-অলিন্দে
একটা অসহ্য শূন্যস্থান; আশ্চর্য শুন্যস্থাণ নিয়ে পরিব্রাজক আমি।
বেঁচে থাকি নিঃশ্বাস নেই এই যোণীবাহিত পৃথিবীতে।
অদ্ভুত নষ্টালজিক কিছু শব্দের হাহাকারে আমার ঘুম আসেনা।
তুমিহীন তুমিময়তার সেই শুন্যস্থাণ হিলিয়ামে পূর্ন কানায় কানায়
– হাইড্রোজেনের দুই জোকার উড়ে যাওয়া
সাংকেতিক পানির উপচে পড়া ঢেউ নিয়ে তাই
রিকশাটাকে নদী ভেবে
রাস্তায় হাটি আমি,
বিছানাটার সমুদ্র হোয়ে ওঠা দেখতে দেখতে
একটা নিস্তব্ধতার একাকীত্বে গোল হোয়ে বসে থাকি
পাশের বারান্দায়।
অপেক্ষা আর অপেক্ষায় কাটে আমার সোয়া দুই বছর!
ছুটি থেকে ছুটি নেয়া হয়না আমার,
দেয়া হয়না এক দেয়াশলাই বক্সে- ভালোবাসা মসলিন।
আমি চাই
তাই আমি চাই তোমার যে তুমি; তারসাথে
আমার কখনওই যাতে দেখা না হয়।
তোমার; তোমার সাথে আমার দেখা
সে’তো ব্রিটিশ
সাম্রাজ্যে এক নিগৃহিত বাংলার ইতিহাস!
তাই এই আমি চাই,
খুব করে চাই এই স্বাধীন বাংলায় আমার যে তুমি,
সেই সন্ধ্যের ডুবে যাওয়া আকাশে লাল শাড়ি ছোট্ট লাল টিপে
ছাঁদে দাড়িয়ে
আমায় খোঁজায় ব্যস্ত যে অস্থির তুমি,
সেই তোমার সাথে আমার দেখা হউক,আবার।
আবার,
রিকশার বাঁ’য়ে বসো তুমি, বিছানার বাঁ’য়ে শুয়ে পড়ো।
আমি পাশে বসে আংগুল ছুই আংগুলে,
ছুয়ে দেই তোমার ঠোটের তিল আমার নিঃশ্বাসে,
সরিয়ে এলোমেঘ চুমু আকি কপালে তোমার,
কিছু শব্দে আবার কিছু কথা হউক,
হউক লেখা একটা কবিতা আবার দ্যাখার পর হউক
ফুচকাতে ভর করা এক সন্ধ্যে।
একটা পায়ে হাটা পথে গোলাপ ফুটুক;আবার।
একটা ছবি হউক ভোরের,
একটা ঘর হউক আমাদের; ছোট্ট এক ঘর।
তোমার আমার মাঝে ছোট্ট একটা বালিশ
হউক,
ছোট্ট এক আংগুল আধোবোলে বাধুক
আমাদের।
তারপর ঠিক ৪৭ বছর পর আমি মরে যাই তোমার ঠোটে…
৪৭ বছর পরবর্তী মৃত্যুর আগে
ভালোবাসা-বাসি সংসারের জন্য হলেও আমার
– তোমার আমার সাথে দেখা হউক অথবা হয়ে যাক…
