| কবিতা | কবি এসেছিলেন |
| কবি | ইমামুল ইসলাম মুরাদ |
| সময় | ২৭-১০-২০২২ খ্রিস্টাব্দ, রাত্রিবেলা। |
| উৎসর্গ | রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ। |
| লিখার স্থান | সিলেট। |
| কবিতার বিষয় | সমসাময়িক |
কবি এসেছিলেন,-
হেমন্তের হিম কোয়াশায় ঝিরঝির স্নিগ্ধ হাওয়ায়
অপরিস্ফুট প্রভাতে আবিল পথে হেঁটে-হেঁটে;
শালি ধানের আমন খেতে ডাঙায়-ডাঙায়
নবান্নের উৎসবে মেতে উঠা পরিযায়ী পাখিদের সাথে
কবিতার খাতা হাতে নিয়ে।
কবি,বিস্ময় দৃষ্টিতে দর্শন করলেন,
বাংলার সৌকুমার্য রূপ!
মেখলা নদী মহানন্দায় পানকৌড়ির লুকোচুরি;
মাছ রাঙার রঙিন ঠোঁটে-ঠোঁটে পুঁটির খুনসুটি,
জলামগ্ন হাওড়ে বুকে সাদা-বকের গগনচুম্বি উঁকি!
বিলে-ঝিলে লাল-নীল পদ্মের প্রসন্নতা আর
স্থলে দলে-দলে সুরভী শিরিন পুষ্পের হাসি ;
অথচ রোদের রক্তিম রশ্মি মৃত্তিকা ছোঁয়ার পর থেকেই
কবিকে আর দেখা যায়নি,অকস্মাৎ কবি নিখোঁজ!
সমস্ত বাংলায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে শুধু সেই কবিতা-খাতার প্রত্যেকটি রক্তাক্ত পৃষ্টা;
এতে সুশ্রী সুবর্ণা বাংলার কারুকার্যময় রূপের লালিত্য বর্ণনা নয়,-
কবি এঁকেছেন,- রাষ্ট্রের একটি ভয়ংকর ভীমদর্শন চিত্র!
মানচিত্রের চতুর্পাশে অনাগত দুর্ভিক্ষের ভয়দ ছাপ,
দেশের কতক জাতি ও প্রদেশের ধ্বংস-বিধ্বস্ততার সাংকেতিক কিছু চিহ্ন;
আবহমান জনতার দুঃখ-ধূসর কোটি-কোটি মুখ!
বিঃদ্রঃ প্রথম প্রকাশ ১১ নভেম্বর ২০২২ দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকায়।