বাংলা কবিতা, আমি আর লিখি না কবিতা, কবি কান্ত রায় | কবিতা অঞ্চল
কবিতা আমি আর লিখি না
কবি কান্ত রায়
উৎসর্গ পারিবারিক আত্মীয়াকে
5/5 - (1 vote)

প্রামাণিক পুরুষ,স্বমোহন কোরে;
সাতেপাঁচে থাকেনা—বিধ্বস্ত করিয়া লুন্ঠন!
যদি এমন পংক্তি দিয়ে—
ছন্দোবদ্ধ রচনার সূচনা হয়;আপনি হয়তো অশ্লীলতা নিয়ে, উপনিষদ খুঁড়বেন!
গালি দেওয়া হারাম জেনেও— ‘হারামখোর’ বোলে গালি দিবেন।
জুগুপ্সার মামলা,রুজু কোরবেন;
আমাদের বাপ-ব্যাটা দু’জনেরই নামে।
অভিশঙ্কায় সহোদরা— অচেতন হয়ে,মৃত্তিকায় লুটিয়ে পড়বে।
গর্ভধারিণী সম্মানীয়া—কেঁদে কেঁদে, সদনের উঠোনে গড়াবে— শৈবলিনী সুরমা।

ভুল—’এই শহরের মধ্যবর্তী অবস্থাপন্ন গৃহস্থেরও ছিলো’,
যেমনটা আমার ছিলো;
বারো হাত শাড়ীতে পন্ড-অবয়ব ঢেকে দেওয়ায়!

যদিও আমি জানতাম—
নামের পাশে লাল দাগ;
নিশ্চিত হলে বেঁচে থাকার স্বামত্বি খর্ব কোরা হয়!
গলায় দিতে হয় ক্ষুমার দড়ি।
শ্মশানঘাট রোডের ঐ মেহাগিনী গাছটায়,
দড়ি দিয়ে—গলায় ফাঁস লাগিয়ে, নিজেকে নিজে হত্যা কোরার আগেই;
কেনো জানি গাছটা কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
অথচ,পঞ্চাশ দশকের পর থেকে-আজ অবধি;
অন্তত পাঁচশো আত্মঘাতের—ফাই-ফরমাস খেটেছে মেহাগিনী।

রাজদ্রোহীর ফাঁসি কার্যকরের রায়ে,
আমি যখন—বিজয় কীর্তনে কিস্তিমাত,
প্রতিপক্ষের আগারে, লাটি-সোটা-বল্লম নিয়ে ‘শালিশের নামে ক্রাঁতি কোরতে আসে মানিক সর্দার।’
সে রাতে মহল্লায়—
গোপনে কানাঘুষো কোরার লোকেরা; পেয়ে বসেছে পৈশাচিক- উল্লাসের খোরাক!
সদ্য প্রসূতি হওয়া নারীর;মধ্যাহ্নভোজের তালিকায়ও,থাকে আমার ভর্ৎসনা নিয়ে হাদিস।
আমি আমার আশীর্বচন গণনা করি,
আপনার অপত্য,লেখক— না হয়ে—বরং মজুর হোক!

যেবার থেকে,রীতিমতো অশ্লীল শ্লোক লিখে— অভ্যর্থনা পাওয়া যায়;
সেবার পারিবারিক নির্বাহে,এক আত্মীয়া আমাকে দ্যাখে বোলেছিলেন—”আলেয়া ফুরালে এ ছেলে পূর্বপুরুষদের ভাত দেবেনা”!
সেদিন মরার আগেই—শুনেছি বিয়োগের সুরেলা-ধ্বনি;কবিতার ঠোঁট সেলাই কোরে— অনশন ডেকেছি।
আমি আর লিখতে পারিনা।ওদের জনকের মাথায় উঠে আসে পাশ্চাত্যের টুপি!আমি আর লিখিনা।

guest
0 Comments
Newest
Oldest Most Voted