| কবিতা | লোকটাকে ঝুলিয়ে দেওয়া যেতে পারে! |
| কবি | হিয়া রাজা |
| কবিতার বিষয় | রূপক |
সেদিন এক ভয়ঙ্কর লোকের দেখা পেলাম, ক্ষুরধার কাঁচের ওপারে !
পোশাকে আশাকে বেশ, কিন্তু,
বামকে ডান আর ডানকে বাম ক’রে –
নিজেকে উল্টিয়ে ছদ্মবেশে লুকিয়ে আছে মালটা,
এফোঁড় ওফোঁড় দু চারটে কথা বলার পরই বোঝা গেল – লোকটা ভয়ঙ্কর !
সাংঘাতিক লোকটা আসলে কালাজাদু তন্ত্রমন্ত্র জানে –
খালি কথা বলেই দিনকে রাত – আর রাতকে দিন করে –
মানে একঘর লোকের সামনে নির্লজ্জের মতো
একেবারে ঘোর নির্জলা অমাবস্যাকে পূর্ণিমা বলে চালিয়ে দিতে পারে !
তারচেয়ে বড় কথা হলো লোকটা কথার পর কথা সাজায় !
লোকটা শব্দের সাথে শব্দ জুড়ে কেমন ঘোরের মধ্যে টানে –
ফিসফিস করে মায়াবী গলায় বিড়বিড় করে কথা আওড়ায় –
কখনো সুরে, ছন্দে, কখনো বা বিচ্ছিরি বেসুরে অস্বচ্ছন্দে !
কথায় কথায় একেবারে টেনে নেয় নিজের মধ্যে –
এক্কেবারে জাদু করে, জাদুটোনা করে – ভুডু করে –
লোকটা স্বপ্ন দেখায়, লোকটা স্বপ্ন ভাঙ্গায়, লোকটা সব্বোনাশ করে !
লোকটা বেহাল থাকে, শব্দের নেশায়, কথা বলার ঘোরে-
সবচেয়ে সব্বোনাশ কথা হলো –
কি লজ্জার কথা – লোকটা কবিতা লেখে – কবিতা — !
অনেক ভেবে দেখলাম লোকটাকে সটান ঝুলিয়ে দেওয়াই যেতে পারে –
দেখো, লোকটা একটা কবি ! লোকটাকে সটান ঝুলিয়ে দেওয়ার জন্যে
এর চেয়ে বড় স্বতঃসিদ্ধ যুক্তি বা প্রমান আর কিই বা হতে পারে !