| কবিতা | কোলাজ কৈশোর |
| কবি | হাসান জীবন |
| সময় | ২২৷০৫৷২০ |
| উৎসর্গ | মিরাজুল মিঠু |
| লিখার স্থান | সরাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। |
বন্ধু মিরাজুল,
জানি আমাদের আর ফেরা হবে না
সোনালুর হলুদ ছুঁয়ে ছুঁয়ে
বৈশাখের স্নিগ্ধ ঝড়ো হাওয়ার মতো হঠাৎ।
কখনো, আর কোন জারুলের বেগুনি মায়ায়।
তোর খুব দুরন্ত চকচকে হিরো সাইকেলটায়।
ক্যারিয়ারে চেপে কোন ধান ক্ষেতের মাঝ দিয়ে।
এঁকেবেঁকে বয়ে যাওয়া নালার পাশে।
একটা সবুজ, সরু আর মেঠো আইলি রাস্তায়।
জানিস, প্রায় প্রতিটি বসন্ত শেষে
শহরের নির্দয় পিচগলা সব রাস্তায় রাস্তায়
আমি এখনো জারুল খুঁজি
একেবারে অচেতনতায়,
দেখি, কোথাও খুব চুপিসারে ফুটে, আছে কি না।
থোকা থোকা সোনালুর হলুদ ঝাড়বাতি।
নীরবে তার চেনা সুবাসহীনতায়।
তোর মনে আছে?
মাঝে মাঝে সারারাত হেঁটে হেঁটে,
আমাদের সেই হিমু হবার প্রত্যয়।
স্লিপার গুনে গুনে,
স্লিপার গুনে গুনে,
একটা ঠিক বয়স না বাড়া,
একান্ত পরিচিত রেললাইন।
আমাদের কখন যে পৌছে দিতো,
শত সহস্র শাপলা ফুটে থাকা বিলটায়।
কসম বন্ধু,
একসাথে ফুটে থাকা এত এত শাপলা,
আজ অব্দি আমি আর কোথাও দেখিনি, কখনো।
এভাবেই থেমে থেমে আমাদের,
ঠিক কত কত আলাপচারিতায়,
একটার পর একটা, জন প্লেয়ার শুষে শুষে।
আকাশের গায়ে ছুঁড়ে দেয়া,
কুণ্ডলি পাকানো সব ধোঁয়ায়, ধোঁয়ায়।
অথচ কত সহজেই মিলিয়ে গেছে
আমাদের বেমালুম ভুলে যাওয়া
কোলাজ কৈশোর।
অথচ আমরা কেবল
বড় হতে হতে,
বড় হতে হতে,
বহু দূরে দূরে,
একেকটা বৃহৎ বটগাছের মত,
বৃদ্ধ আর স্থবির হয়ে আটকে গেছি-
আমাদের অনিকেত যাপিত জীবনটায়।।
