| কবিতা | অনুভূতির মালিকানা |
| কবি | দিপংকর রায় |
| সময় | ১৭ জুলাই, ২০২০ইং |
| উৎসর্গ | তনুশ্রী রায় মৌ |
| লিখার স্থান | সুনামগঞ্জ |
| কবিতার বিষয় | বিরহ |
তুমুল ঝড়ের তান্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়া কোন রাত বা গ্রহণ কালো ঝুম বৃষ্টিমুখরিত ভয়ংকর মনকেমনের দুপুরে,
অথবা ঘুমচোখে পায়ের পাতায় প্রথম শিশিরের ছোয়া লাগানো প্রিয় শরতের সকাল;
কিংবা পেয়ালা ভরা লাল পানির নেশায় ডুবে
তীব্র কনকনে শীতের রাতে,
যখন নিজের সাথে আমার নিজেরই একান্ত আপন আড্ডায় মিলিত হই।
তখন মাঝে মাঝে কল্পনায় টাইম মেশিন সেট করে নিজের অজান্তেই অনেকটা পিছনে চলে যাই।
চলে যাই সেই সময়ে, যেখানে প্রায় বহুদিন আগে
আমার কৈশোর পেরিয়ে,
আচমকাই যৌবনে পা ফেলার দিনে;
আর কি নিদারুণ এক অন্ধকারময়
পথভ্রষ্ট হওয়া জীবনের সূচনাকালে,
হঠাৎই শব্দ বিহীন মায়াবী এক হুংকার দিয়ে
বিধ্বংসী দেবীর রুপে,
ঝলমলে সূর্যের আলোর মত প্রেম নিয়ে তুমি এসেছিলে;
আমার অনূভুতির দুয়ারে কড়া নাড়তে।
প্রেম, আহ্ সেই প্রেম,
যেনো যৌবনের অবিচ্ছেদ্য এই অংশ
আমার কাছে আসারই কথা ছিল।
নিজের হৃদয়ের গোপন কোঠরে,
লুকায়িত এক বাসনা নিয়ে
আমি যেনো আঠারোটি বসন্ত অপেক্ষাতেই ছিলাম তার।
কিন্তু, সে কোন এক যাদুকরী মন্ত্রের ছলনায় ক্রমে ক্রমেই
পথ হারিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হচ্ছিলো,
কেন যেনো ঠিক, আমার কাছেই এসে ঠেকছিলো না।
আমার সদ্য পরিনত হওয়া অনুভূতিতে,
সে কোনমতেই টোকা দিতে পারছিলো না।
অতঃপর,
তুমি আসলে, আমাকে প্রেমের হাতে-খড়ি দিতে;
তুমি আসলে, আমার ভেতর তোমার নিজেকে প্রতিষ্টা করতে;
তুমি আসলে, আমাকে মিলন আর বিচ্ছেদের স্বাদ দিতে;
তুমি আসলে, আমাকে তোমার নিজের বলয়ে গ্রাস করে নিতে;
সেই থেকে আমার সমস্ত অনুভূতির মালিকানা সব তোমার নামে।
তারপর,
গত হলো অনেক গ্রীষ্ম-বর্ষা, শীত-বসন্ত;
পেরিয়ে আসলাম কতশত স্থান, কাল।
কত গান, কত কবিতায় দ্রুত চলে গেল অজস্র বিনিদ্র রাত;
ক্ষণে ক্ষণে রাগ, অভিমান, আর ক্ষোভের ভারে বিষন্নতার সাগরেও নির্লিপ্তভাবে নিমজ্জিত ছিলো দুজনার মন।
হৃদয়ের অসংখ্য ভাব আদান-প্রদান হলো প্রতিদিন,
তুমি আমি মিলে তৈরি করলাম সুখ আর দুঃখে ভরা স্মৃতির অসমাপ্ত এক আর্কাইভ।
বিশ্বাস আর আস্থা নামক বাহনের উপর ভর করে
হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলাম একসাথে।
প্রবল প্রনয় মোহে সৃষ্টি হলো অহংবোধ,
গুটিয়ে নিলাম নিজেকে কেবলই তোমার মাঝে;
বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলাম বন্ধু, সংসার আর সবার কাছ থেকে।
আমার চারিদিকে শুধুই তুমি আর তুমি,
তোমার বাইরে আমি আর কিছুই দেখি না,
কিছুই চিনি না, কিছুই জানি না।
অনূভুতিরা শুধুমাত্র তোমার কাছেই জিম্মি।
পরিশেষে,
হঠাৎ ঘোষনা না দিয়েই চলে আসলো
তোমার আমার বিচ্ছেদের দিন।
খেয়াল করে দেখলাম, আমাকে শিখিয়ে, পড়িয়ে আর বিলিয়ে দিয়ে,
তোমার কাছে প্রেম রইলো একেবারেই শূন্যের কৌটায়।
দীর্ঘদিন ধরে বয়ে নিয়ে চলা এই প্রেম সম্পর্কের রেশে যেটুকু ভালোবাসা তৈরি হয়েছিলো,
তোমার তরফে থাকা সেই ভালোবাসা ফুরিয়ে যাওয়ার সময় তখন বিদ্যমান।
আর আমি তখন তোমাকে হারানোর ভয়ে,
ঝড়ে বিধ্বস্ত পাখির উড়তে না পারা বাচ্চার মত
ভেবাচেকা খাওয়া অবস্থায়।
তুমি যেনো ক্ষয়ে যাওয়া সময়ের যথার্থ মূল্যায়ন দিতে গিয়ে,
একেবারেই কালক্ষেপণ করলে না।
আমার দুর্বল ও ভয়ার্ত মনের ভিতর
এক মহাকাল আরো বেশি ভয় ঢুকিয়ে,
রংচংহীন এক দুপুরে, কি সাদামাটাভাবেই,
তুমি বললে, বিদায়!
তখনও নিথর হয়ে যাওয়া দেহের ভিতর
অনুভূতি বলতে কেবলই তুমি।
প্রথম যৌবনের নষ্ট হওয়ার সেই দিনে
অনুভবে তুমি ছিলে,
মানুষ না হয়ে পুরুষ হয়ে উঠার মুহুর্তেও
অনুভবে তুমি ছিলে।
ভাঙা কাচের টুকরো গুলো মুষ্টিবদ্ধ করার সময় অনুভবে তুমি ছিলে,
মৃত্যু যখন স্পর্শ করেও আমার হলো না
সে বেলাতেও অনুভবে তুমিই ছিলে।
তুমি ছিলে আমার প্রতি একক মুহূর্তে,
কিন্তু কি অদ্ভুত!
এই তুমি টাই কখনো আমার ছিলে না।।
