পিপাসার গান
কোনো এক অন্ধকারে আমিযখন যাইব চলে — আরবার আসিব কি নামিঅনেক পিপাসা লয়ে এ মাটিরসম্পূর্ণ
কোনো এক অন্ধকারে আমিযখন যাইব চলে — আরবার আসিব কি নামিঅনেক পিপাসা লয়ে এ মাটিরসম্পূর্ণ
তুমি তা জানো না কিছু, না জানিলে-আমার সকল গান তবুও তোমারে লক্ষ্য করে!যখন ঝরিয়া যাবসম্পূর্ণ
মাঠের ভিড়ে গাছের ফাঁকে দিনের রৌদ্রে অই;কুলবধুর বহিরাশ্রয়িতার মতন অনেক উড়েহিজল গাছে জামের বনে হলুদপাখিরসম্পূর্ণ
পৃথিবী সূর্যকে ঘিরে ঘুরে গেলে দিনআলোকিত হয়ে ওঠে—রাত্রি অন্ধকারহয়ে আসে; সর্বদাই, পৃথিবীর আহ্নিক গতিরএকান্ত নিয়ম,সম্পূর্ণ
শীতের কুয়াশা মাঠে; অন্ধকারে এইখানে আমি।আগত ও অনাগত দিন যেন নক্ষত্রবিশাল শূন্যতারএই দিক- অথবা অপরসম্পূর্ণ
নিজেকে নিয়মে ক্ষয় ক’রে ফেলে রোজইচ’লেছে সময়;তবুও স্থিরতা এক র’য়ে গেছে,সময় ক্ষয়ের মতো নয়। অঘ্রাণেরসম্পূর্ণ
হঠাৎ তোমার সাথে কলকাতাতে সে এক সন্ধ্যায়উনিশশো চুয়াল্লিশে দেখা হ’ল- কত লোক যায়তড়াম বাস ট্যাক্সিসম্পূর্ণ
শীতের ঘুমের থেকে এখন বিদায় নিয়ে বাহিরের অন্ধকার রাতেহেমন্তলক্ষ্মীর সব শেষ অনিকেত অবছায়া তারাদেরসমাবেশ থেকেসম্পূর্ণ
মনে পড়ে সেই কলকাতা–সেই তেরোশো তিরিশ–বস্তির মতো ঘর,বৌবাজারের মোড়ে দিনমানট্রাম করে ঘরঘর।আমাদের কিছু ছিল নাসম্পূর্ণ
তারপর একদিন উজ্জ্বল মৃত্যৃর দূত এসেকহিবেঃতোমারে চাই- তোমারেই,নারী;এইসব সোনা রূপা মসলিন যুবাদের ছাড়িচ’লে যেতে হবেসম্পূর্ণ
দু-এক মুহূর্তে শুধু রৌদ্রের সিন্ধুর কোলে তুমি আর আমিহে সিন্ধুসারস,মালাবার পাহাড়ের কোল ছেড়ে অতি দূরসম্পূর্ণ
এক তোমার নিকট থেকে সর্বদাই বিদায়ের কথা ছিলোসব চেয়ে আগে; জানি আমি।সে-দিনও তোমার সাথে মুখ-চেনাসম্পূর্ণ