কবিতা বাজপাখির ধারাপাত
কবি তন্ময় সাহা
সময় 12/10/2026
কবিতার বিষয় জীবনমুখী, প্রেম, রূপক
Review This Poem

আজ আমি কাঁদতে এসেছি উঠোনে।
চঞ্চল সময়ের পলেস্তারা খসে যে আবাস দাঁড়কাক হয়ে আছে,
তাকে নিয়ে কত না বিবাদ!
আক্ষেপ গুনে গুনে শেষ—
কেন এক বাজপাখি পড়ে চলে অন্তহীন ধারাপাত?
কেন সে ঘোরে চক্রাকারে— কেন্দ্র ছিঁড়ে, এক লহমার বিরাম পায় না খুঁজে?
কপালের মাঝখানে নিয়তিও লিখে রাখে শত শত দোষ।

আজ আমি কাঁদতে এসেছি উঠোনে,
মোড়াগুলো সাজানো থাকুক,
উঠানে বিছানো হোক শীতলপাটি, শরবতও রাখো।
চুপচাপ থাকো, অনাহুত এসে— স্থবির হোক, স্থির হোক, ধীর হোক।
আমি বলি না আমার কথা—বিনিময়ে চন্দ্রের পাত হয়,
অনাস্থা-সঙ্গীত নিয়ে বসি না অযথা।
যারা যারা আসে, স্বেচ্ছায় সিদ্ধ হোক সম্পর্ক তাদের,
নশ্বরতার এই জীর্ণ আধারে কিছু কিছু ফেলে রেখে—
ফিরে যাক তৃপ্ত মানুষ।

বোধ, মগজ ও করোটির মৃত্যুর পর,
আশার প্রতিভা ঘিরে ইটের দেয়াল ওঠে তো উঠুক;
কোন ভাষায়, কোন আশায়, কে লেখে আমার নাম—
অথবা কে লেখে না!
কারা ঘরে বসে ছিল? কারা ফুঁ দিয়ে যায়নি এ বিউগলে?
এত সব শব নিয়ে এই টানাটানি-হেঁচড়ানো ভালোবাসি না।
ব্যথাবোধ জেগে ওঠে তীব্র,
নিটোল বুকের মাঝে সেঁধোবার শখ ছিল—হলো না!

একদিন ভোরবেলা আদিম ক্ষুধার বড় শখ ছিল,
কামনার রমণীও দিল না,
অথবা একরাশ স্তাবকের গুণবাণী— শখ ছিল;
এসবের চেয়ে আরও বেশি চাওয়া ছিল কাঙালের, দীনহীন নীরবতা।

যে ডঙ্কায় জেগে ওঠার কথা ছিল, আমি তাতে ঘুমিয়ে পড়ছি কেন?
অথচ এমনই না কথা ছিল! মৃত্যুর যন্ত্রণা ঘিরে মগজকে;
কতদিন বলে দিয়ে গেছি আমি— অভ্যস্ত হও, অভ্যস্ত হও;
সেও আজ অবাধ্য বড়, শুনছে না কোনো শেষ কথা!

guest
0 Comments
Newest
Oldest Most Voted