| কবিতা | চর্মগোলক |
| কবি | সুজিত কুমার ভৌমিক |
| কাব্যগ্রন্থ | রশ্মিছটা |
| সময় | ২০২৬ |
| উৎসর্গ | সবিতা ভৌমিক |
| লিখার স্থান | চন্ডীপুর |
| সম্পৃক্ততা | যন্ত্রনা |
| কবিতার বিষয় | অন্যান্য |
চর্মগোলক
**********
সুজিত কুমার ভৌমিক
********************
এই সবুজ প্রান্তর নহে শুধু তৃণভূমি,
ইহা এক কুরুক্ষেত্র,এক রণাঙ্গন।
শুভ্র রেখায় বিভক্ত ভূখণ্ড,
সীমান্তে প্রহরী গোলপোস্ট
নিশান উড়ে দুই প্রান্তে,
প্রতিপক্ষ গৌরবধ্বজা প্রাঙ্গন।।
বাঁশির বিস্ফোরণে সূচিত হয় মহারণ।
পদাতিকেরা ছোটে, কবচহীন দুর্জয়।
পায়ের তলায় চর্মগোলক —
অস্ত্রও বটে,আবার শস্ত্রও বটে।
কেহ ভেদ করে প্রতিরক্ষা ব্যূহ,
কেহ রচে দুর্ভেদ্য প্রাচীর অজয়।।
সংঘর্ষে কাঁপে ধরণী,
ঘর্মে সিক্ত হয় বীরের ললাট।
কৌশল কষাঘাতে ধরাশায়ী হয় দেহ,
তবু মনোবল ভগ্ন হয় না।
গোলরক্ষক শেষ আশ্রয়, অন্তিম দুর্গ।
বায়ুবেগে উড়ে এসে সে রোধ করে পরাজয়ের তীর মলাট।।
দর্শকবৃন্দ কোলাহলে তোলে জয়ধ্বনি,
বা তীব্র নিন্দার তুফান,
এক মুহূর্তে স্বর্গ, পরক্ষণেই নরক।
একটি গোলই বদলায় ইতিহাস,
একটি ভুলই রচে ট্র্যাজেডি।
তথাপি খেলা শেষে করমর্দন,
শত্রুতা নহে,শুধু প্রতিযোগিতা নিশান।
সূর্যাস্তের রক্তাভায় যখন থামে রণডঙ্কা,
সৈনিকেরা প্রত্যাবর্তন করে আপন আলয়ে।
আত্মার মাঝে বাজতে থাকে সেই বাঁশি,
যে বাঁশি ডাকে বারবার,
আবার কোন এক নতুন যুদ্ধবলয়ে।।