| কবিতা | জুই |
| কবি | কৌশিক মজুমদার শুভ |
তোমায় ল্যাখা শেষ চিঠিতেও আমি ভুল করেছি চন্দ্রবিন্দু,
তারপর যেই গাছে বাকলহীন কান্নারা রেজিনের মতো চু’য়ে পড়ে-
সেইখানে দেখি ল্যাখা আছে নাম,
মৃত্যুর গাঢ় আঁধারে কর্কশ পৃথিবীর নীল হাওয়া, উত্তাল সমুদ্র-
হাওয়া সমুদ্রের নীল উপচে পড়েছে যে শরীরে,
কন্ঠে তার ধূসর হেমলক,
কলমীর ভাঙা ডাঁটার মতো কালো, নিরব-
গাঢ় আঁধারে স্বাতী তাঁরার মতো জ্বলজ্বল করে যেই মুখ,
সেই মুখ দেখে কবে আমি ন্যাঙটো শিশুর মতো শরীরে এঁকেছি কাঁদার প্রচ্ছদ-
তার মতো উত্তরের হাওয়ায় যেন দেখেছি, উড়ে গ্যাছে সোনালী পতঙ্গিনী শরীর-
কবরের ঘাসের মতো নিথর নিবে আছে স্বতন্ত্র চাঁদ;
অসাড় পাতাদের মতো ঝরে ঝরে উড়ে গ্যাছে যেন।
সাইকেলের ঘন্টির মতো সুরবিস্তৃত জীবন ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে আসে,
কোনো এক ম্লান চুল কিশোরীর মতো-
উঠানে সে ধান ঝাড়ে, গীত গায়,
সময় হলে দ্বাদশীর চাঁদের মতো নিবে আসে জোৎস্নায় ফিকে হয়ে- পান্ডুর!
যেন ভোরের কুয়াশা থেকে কুয়াশায় উড়ে যায় ব্যস্ত শালিখ-
যেন মৃত্যুর ঘর তারে ডাকে য্যানো!
শীতরাত্রির নির্জন খড়ের মতো নিরবে সে পড়ে থাকে!
জুই, তোমার নামে তো চন্দ্রবিন্দু ছিলো না!
