কবিতা রাষ্ট্র, জীবন এবঙ ঈশ্বরের উপহাস
কবি মিজান মোহাম্মদ
সময় ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, দুপুর
লিখার স্থান আনোয়ারা, চট্টগ্রাম
Review This Poem

১.

তোমাকে বলা হলো- ছেনাল রাষ্টের যৌনি চাটো
তোমাকে বলা হলো- রাজনীতিকের পা চাটো
আইন- তোমাকে গুণতে শেখাচ্ছে বহুগামী বেশ্যার নাভী
নিয়মের শৃঙ্খলে বেঁধে রাখতে চাইছে -সমাজ

তোমার জানা আছে,
মানুষের কোন সীমান্ত থাকেনা
মানুষের কোন রাষ্ট্র থাকেনা
মানুষের কোন ধর্ম থাকেনা
মানুষের কোন আইন থাকেনা
অথচ-
এর সবকিছু’ই আজ সুবিধাবাদী’দের দখলে।

কাঁটাতারে ঘিরে নিয়েছে- সীমান্ত
পুঁজিবাদী বাজার- বিত্তবান’দের দখলে
নপুংসক’র বুকে- প্রেমিকারা লেপ্টে আছে
পৃথিবী নামক জংশন- ভরে আছে দালালে…

(প্রতিনিয়ত দুর্নীতি ধর্ষণ করে দ্যাশ’কে, দ্যাশের কুমারী যৌনি গহ্বরে হারায় দুর্নীতি’র পৌরুষ; সফল বীর্য স্থলনের পর দ্যাশ গর্ভে জন্ম নেয়- এক বেজন্মা কলুষিত দুর্নীতিবাজ জাতি)

এসবের ভিড়ে-
তুমি খুব কষ্টে আছো
কষ্টে আছো
কষ্টে আছো
কষ্টে আছো…

*

২.

মরেনি কিছুই, অথচ- আকাশে শকুনের আনাগোনা।

বাগানের সব গোলাপ ঝরে পড়েছে; শোকে
তালা ঝুলছে পৃথিবীর সব অস্ত্রাগারে- খোলা নেই
একটাও ড্রাগ হাউজ। অথচ, তুমি মরে যেতে চাও!

তোমার বন্ধু – কেউ নেই।
তোমার শত্রু – কেউ নেই।

তুমি- আত্মহত্যার কথা ভাবছো!
আত্মহত্যা মহাপাপ জেনেও,
তুমি মরে যেতে চাচ্ছো।
মেরে ফেলতে চাইছো – নিজেকে।

ব্লেড হাতে তুলে নিলে,
ব্লেড বসিয়ে টান দিলে- হাতের শিরা বরাবর
ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরুচ্ছে।
তুমি হিসেব কষছো, ঠিক কতটুকু রক্ত বেরুলে
মানুষ মারা যায়।

তুমি মুক্তির কথা ভাবছো; তুমি মৃত্যু’র কথা ভাবছো।

মরে গ্যালে…..

অথচ-
এক
দুই
তিন
চার
এভাবে আরো কিছু দিন কিংবা সময়।

কেটে গেছে হিম ঝরা কুয়াশার ঘোর!

তুমি চোখ মেলে তাকালে –
বেঁচে আছো; বরং বেঁচে গেছো।

আচ্ছা, মৃত্যু’ই কি চির মুক্তির পথ?
মানুষ মরে গেলেও তো দায় থেকে যায় নাকি?

*

৩.

কেটে গেছে জরাগ্রস্ত শীত,
গাছে – গাছে; প্রাকৃতিক বসন্ত
ডালে এসেছে হরিৎ যৌবন,
গজিয়েছে পাতা – ফুটেছে ফুল
জীবন- বরণে উন্মুখ; সুখ
ভুলে যাবতীয় শোক এবঙ ভুল

*

৪.

আমি হাঁটতে হাঁটতে জানতে পারলাম,
পায়ের নিচে মাটি থাকে না- থাকে মানুষ
জানতে পারলাম- মানুষের পা থাকে না;
পা থাকে দালালের।

আমাদের ভাড়াটে পা; ঋনী শরীর-
এসব জেনে, ঘৃণা হয় নিজের জীবনের প্রতি…
আমরা-
জেনে গেছি, দেখা-অদেখা’র মধ্যবর্তী ফারাক
শিখে গেছি, নাগরিক জেব্রাক্রসিং পারাপার….

আমরা বানাচ্ছি উড়াল সেতু,
সমুদ্রের তলদেশে সু-দীর্ঘ সুড়ঙ্গপথ
চারিদিকে রব-উঠছে স্লোগান; উন্নয়ন চাই, উন্নয়ন!

ঘরে ভাত নাই- উন্নয়ন
ধর্ষিতার চিৎকার- উন্নয়ন
গুম, খুন, রাহাজানি- উন্নয়ন
ঘুষের টাকায় বাড়ি, গাড়ি- উন্নয়ন
যাবতীয় দূষণ, রাষ্ট্রীয় শোষন- উন্নয়ন

সবাই মিলে উন্নয়ন চোদাও শালা, উন্নয়ন!

শহুরে ইঁদুর টেনে নিয়ে যায়- জননীর ব্রেসিয়ার
হাসপাতাল বুকে ধারণ করছে- অজস্র চিৎকার
শত, সহস্র ভ্রুন পঁচছে- নগরীরর নালা; নর্দমায়
বিনা কারণে, এসবে বলো কার কি আসে যায় ?

কবি; মূলতঃ নাগরিক জলসায়;
অন্ধ চোখে দেখে রাষ্ট্রীয় নাটক।

guest
0 Comments
Newest
Oldest Most Voted