| কবিতা | প্রান্তিক চাষি |
| কবি | তারাপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় |
| কাব্যগ্রন্থ | তরঙ্গ |
| সময় | 09 ডিসেম্বর, 2023, সকাল |
| লিখার স্থান | শান্তিনিকেতন, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। |
| সম্পৃক্ততা | প্রান্তিক চাষির জীবন |
| কবিতার বিষয় | অন্যান্য |
এক চিলতে জমি লয়ে
করে কৃষি মন দিয়ে।
বীজ বপনে আসে দ্বন্দ্ব
মালিকের কথায় নাই যে ছন্দ।
কথার মাঝে ভালো মন্দ
তাতেই চাষি খোঁজে আনন্দ।
বপন করিল মূলার বীজ
প্রথম খণ্ড জুড়ে।
শিম আর বেগুন তার পরে আসে
দ্বিতীয়ে, তৃতীয়ে।
আনিয়াছে জল বালতি ভরে ভরে
দূর হতে, স্বল্প সেচন করিবার তরে।
বীজ হতে গাছ বাহির হল
মাটির খনিজে বৃদ্ধি পেল।
শিম গাছে তার লাগল পোকা
বেগুনের কীট করলো ফাঁকা।
মূলার গাছ রূপে ধরে না
কী হবে তাতে?
মূল মাটির গভীরে গেল না।
ভাগ্যের পরিহাস হেন
শীত যাই যাই করে কেন,
যত্ন বিফলে যায় যেন
চাষির সব্জি ফলিল না।
গ্রীষ্মে আউশ, বর্ষায় আমন
শীতে রবি, যদি না হয় প্লাবন।
মালিক সৌভাগ্য পূর্ণ ফলনে
দুর্ভাগ্য চাষির অতি বরষণে।
যদি দর্পে দামিনী ডাকিয়া প্লাবন
গাছের চারায় ধরে যে পচন।
যা ছিল হায় তা চলে যায়
হতাশায় চাষির আত্মহনন।