| কবিতা | সরকারী চাকর |
| কবি | সুজিত কুমার ভৌমিক |
| কাব্যগ্রন্থ | প্রতিবাদ |
| সময় | ২০২২ |
| উৎসর্গ | সুকুমার ভৌমিক |
| লিখার স্থান | চন্ডীপুর |
| সম্পৃক্ততা | জীবনমুখী, প্রতিবাদ |
| কবিতার বিষয় | জীবনমুখী, প্রকৃতি, প্রতিবাদ, ভারতবর্ষ |
সরকারী চাকর
****************
সুজিত কুমার ভৌমিক
********************
কলুর বলদ এর মতো,
সারা জীবন শুধু কর্মস্থল
আর বাড়ি করেই গেলাম।
একটি খুঁটির মধ্যে বাঁধা হয়ে
কর্মস্থল থেকে বাড়ি,
বাড়ি থেকে কর্মস্থল।
এটাই চাকুরীজীবিদের
জীবনের পরিসর হয়ে থাকলো।
যন্ত্রণার বস্তা কে পিঠে নিয়ে,
কায়িক পরিশ্রম করে হাঁপাতে হাঁপাতে,
কর্মস্থল থেকে বাড়ী,
আবার বাড়ী থেকে কর্মস্হলে
ফিরতে হয় মানসিক যন্ত্রণার
সিলিন্ডার কে বয়ে নিয়ে।
সারা জীবন শুধু মানানোর চেষ্টা করলাম।
কখনো বা স্ত্রীর সঙ্গে মায়ের,
কখনো বা পাড়াপড়শীর সাথে,
কখনো বা কোন বহুরুপী রক্তচোষা
রাজনৈতিক নেতার সাথে।
সারাজীবন শুধু মানানোর চেষ্টা করই গেলাম।
মানাতে মানাতে, হাঁপাতে হাঁপাতে,
বসন্তের শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছে গেছি।
এখন জীবনটা যেন বোঝা বলে মনে হচ্ছে।
বোঝার আড়ালে শান্তির যদি
কোন সূত্র থাকতো?
যদি শান্তির আলো কিংবা
স্বস্তির আলো দেখতে পেতাম?
বোধকরি মনটা আনন্দে ভরে যেত।
কিন্তু যন্ত্রণার জতুগৃহে সেই আলো কোথায়?
সারাটা জীবন শুধু ভালো ছেলে,
ভালো স্বামী, ভালো বাবা,ভালো পড়শী,
ভালো শিক্ষক হওয়ার জন্য
ছুটেছি আলেয়ার মতো।
কখনো নিজেদের কথা ভাবাই হয়নি,
নিজেদের বসন্তকালগুলো
কীভাবে চলে গেলো?
বসন্তকালগুলো কী ভালোভাবে কেটেছে?
না কী কোন কাল কুটিরে,
কুটিল হিংসুক রাজনীতির
দাঁতের মাঝখানে পিষে
সমস্ত আশা আকাঙ্ক্ষাগুলো
টুকরো টুকরো হয়ে নর্দমার
মাটির সাথে মিশে গেছে?
সেটা ভাবার সময় আমাদের যে নেই।
সময় থাকলেও খুঁটির পরিসরে
তার কোন নির্দিষ্ট অবয়ব নেই।
আমরা যে চাকরি করি।
আমরা সরকারের চাকর।
আর কখনো চাকর হয়ে,
আনন্দ করার সুযোগ নেই।
কোন চাকরই আনন্দ করতে পারেনা।
সারা জীবন শুধু দাসত্বপ্রথার
চাকরের মতো বশের সামনে
হাঁটুগেড়ে হাতজোড় করে
বলতে হবে -------
-"হ্যাঁ মহাশয়,না মহাশয়।
হ্যাঁ মহাশয়া, না মহাশয়া"।