| কবিতা | মুক্তি দাও |
| কবি | সুজিত কুমার ভৌমিক |
| কাব্যগ্রন্থ | রশ্মিছটা |
| সময় | সেপ্টেম্বর ২০২৪,দুপুর |
| উৎসর্গ | সুকুমার ভৌমিক |
| লিখার স্থান | চন্ডীপুর |
| সম্পৃক্ততা | জীবনমুখী, প্রতিবাদ |
| কবিতার বিষয় | জীবনমুখী, প্রকৃতি, প্রতিবাদ, রাজনৈতিক, স্বাধীনতা |
মুক্তি দাও
**********
সুজিত কুমার ভৌমিক
**********************
জীবনের অমূল্য সময়গুলো হারিয়ে ফেললাম,
বয়ে যাওয়া পেঁজা তুলো কিম্বা
দিকভ্রান্ত পাহাড়ি ঝরনার মতো,
কয়েকটা ঝনঝন করা মুদ্রার জন্য,
কয়েকটা খসখস করা টাকার জন্য,
কিম্বা কয়েকটা মিথ্যে চকচকে,
মরীচিকার মতো নাম ও জশের পেছনে।
কখনো বা মূর্খের মত তালজ্ঞানহীন,
দমকা বাতাসের মতো ঝগড়া করেছি,
কিম্বা ঝগড়া লাগিয়েছি অথবা,
ঝগড়াতে আস্তে করে ইন্ধন দিয়েছি,
পেছন থেকে সূক্ষ্ম গভীর ষড়যন্ত্র করে।
কখনও বা কয়েকটা টাকার জন্য,
কারোর জীবন নিয়েছি টুক করে,
নিরপরাধ সুন্দর ফুল তোলার মতো।
করেছি কারোর চরম ক্ষতি বা সর্বনাশ।
কিন্তু আমি কী পেয়েছি?
তেরবার জেল খেটেছি,
পেয়েছি আসামি খুনি নাম।
কিম্বা পেয়েছি সবার কাছে
ঘৃণা নামক ওই নর্দমার চেয়েও,
কুৎসিত কদাকার বিভৎস সম্পর্ক।
আচ্ছা, ফিরে পেতাম আমার যৌবন?
ফিরে পেতাম আমার হারিয়ে যাওয়া,
সোনালী তপনময় অমূল্য সময়?
ফিরে পেতাম সেই কলঙ্কহীন আমিকে?
বড্ড দেরি হয়ে গেছে।
আজ এই মলিন বার্ধক্যের ভারে,
নুব্জ শরীরে শুধু বসে বসে ভাবি,
এই ঘৃনা থেকে মুক্তি দাও,
এই নুব্জ শরীর থেকে,
ওই হারিয়ে যাওয়া সময় আবার হয়তো,
পরের জন্মে ফিরে পেতে,এই জন্মে
মুক্তি দাও, মুক্তি দাও, মুক্তি দাও।