| কবিতা | গোধূলির নৈঃশব্দ্যে |
| কবি | নিলুফার গনি |
| সময় | জুলাই বনানী, বিকাল |
| লিখার স্থান | বনানী, ঢাকা |
| কবিতার বিষয় | প্রতিবাদ |
আঁধারপুরীতে রইবো ভ্রাম্যমান,
আর কতকাল, আর কত প্রহর?
গগনে ধূসর মেঘে ঘনায়মান-
হেলবে কী কভূ রোদের লহর!
তবু তরী নিয়ে বসে আছি তীরে-
মনে বিন্দু বিন্দু শিশিরের আশা
বন্দী পাখিরা ফিরিবে স্বপ্ন নীড়ে,
কেটে যাবে সব ঘন ঘোর কুয়াশা।
একই সবুজ গালিচার ক্রোড়ে,
একই রবি শশীর আলোর ডোরে,
কেউ রাজ করি সুউচ্চ প্রাসাদে,
বিলাসী ডানার অপার আহলাদে।
মুক্ত ভূমিতলে তৃষ্ণার্ত অনুনাদে,
কেউ চৈত্র্যের নিদাঘ দহনে কাঁদে
মুখে নেই মোদের কোন ভাষা,
যার যার মত খেলে যাই পাশা।
পৃথিবী ঘুরছে অসমতার বৃত্তে
রঙিন বিহগের বিভোর নৃত্যে।
ধুসর পাখিরা আলোর অলিন্দে
উড়ছে অবারিত উন্মত্ত শিরে।
নীরিহ পাখিরা পেষিত তিমিরে,
রক্ত ঝরে আফোঁটা কলিকা বৃন্তে।
অধরা স্বপ্ন রয়ে যায় হৃদয় মন্দিরে
সবাক পংক্তিরা রয় বুকের গভীরে
সাহসী বিহগেরা হটে না ত্রাসে
আহত পাখায় উড়ে চলে আকাশে
মিলিয়ে যদি যায় ভোরের শিশিরে
তবুও খাবার নিয়ে ফিরবে নীড়ে
বিদায়ী সূর্য আজ গোধূলির তীরে
মিলেছে আজ বড় গাঢ় আবিরে।
এস মোরা গড়ি শান্তির পৃথিবী,
সবাই মিলে আঁকি সবুজের ছবি।
ঝেড়ে ফেলে সব দর্পের প্রলাপ,
নব মৃত্তিকায় ফোটাই গোলাপ।
প্রাপ্তির সীমায় রাখি অটুট সম্মান
উজ্জ্বল তারার মত হয়ে মহীয়ান
সমুখের দিকে হই আগুয়ান।।