| কবিতা | ক্লোরোফিল কম্পাঙ্ক |
| কবি | লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডল |
প্রতিটি সারিতে নদীর সিক্ততা নিয়ে নিঃশব্দে বেড়ে ওঠে মিটিং মিছিল । আলোচনা চলতে থাকে দেশসুদ্দ সুন্দর পরকীয়ার সাথে সাথে শ্লেষ্মাজনিত চুমুর পূর্ণিমা । রাস্তার ধারে ঘোলা জল । কেবল আগুনের বাছবিচার নেই বলেই যথায় তথায় জড়িয়ে যায় শুদ্ধ রাত –
বর্ষা অব্দি যত দিন যায় এই বাঁচা আর মরে যাওয়াগুলো সব আলাদা হয়ে যায় , কাকতাড়ুয়া দাঁড়িয়ে থাকে ধান খেতের মাঝে – ভিজতে ভিজতে মুছে যায় খড়ি দিয়ে আঁকা চোখ – খড়ের বুকে নিজস্ব কেন্নোর বসবাস , বাঁচাটাই সত্য জেনে রক্তাক্ত করে দেয় জানালা দরজা ।
কোমর থেকে একটা স্নায়ুরেখা ব্যথা ছড়ায় পায়ের পাতা পর্যন্ত । কতবার বলেছি – এসো একদিন , বালিস বিছানা ছাড়াই , শুধু ঘাম ঝরবে – ঝড় বাঁধবো পাখি আর আমাদের সমস্ত সকাল নিয়ে – হবো ফুটিফাটা – সাকুল্যে যা কিছু ঘরকন্না , পেয়ে যাবো শ্যামা ঘাস আর ক্লোরোফিল কম্পাঙ্ক –
সবটাই অজানা । গাছের ছায়ায়, রোদের ভিতর অন্তঃস্থল । কাঁটাঝোপের স্বপ্ন নিয়ে গ্রামীনরা অ্যামেচারই হয় । আত্মপরিচয় নিয়ে শেষ পর্যন্ত ভোটজীবন আর ভোরবেলা পেরিয়ে যাবার প্রশংসাটুকুই মেলে । তবু দেখো – আরেক শরীর চায় মরণ কাঁপন ; ক্ষত বিক্ষত আঁধারের নদীতট –
ঠোঁট ফাঁক হয়ে যায় তখনই – এক অজানা পাখি ডেকে উঠে । গাছের মাথার দিকে তাকিয়ে থাকার মুহূর্তে ঝরঝর কয়েক বিন্দু জল – ঝরার কথা ছিল না এ সময় , হেঁসাতি জঙ্গলে আটকে যাওয়া ঢেউ নীল হয়ে যায় , গোড়লির সুত্র ধরে আকাশ শুয়ে থাকে ধানক্ষেতে –