| কবিতা | ভাঙ্গা জীবন (পর্ব-৮) |
| কবি | বোরহানুল ইসলাম লিটন |
| লিখার স্থান | পাঁচুপুর, আত্রাই, নওগাঁ। |
একদিন এসে সন্ধ্যাবেলায় ফুলি ডেকে মোরে কয়,
এশা শেষে এসো মোদের বাড়িতে ডেকেছে বাবা তোমায়।
হয়তো বলবে বিবাহের কথা
অন্তরে পুষে রেখো না গো ব্যথা
উত্তর দিতে স্মরো মোর কথা একটু চিন্তা করে,
আমি তো থাকবো গোপনে লুকায়ে পাশে ঘরটার দোরে।
হৃদয় আকাশে ঘন কালো মেঘ জেগে ছিল জমে বেশ,
খুশির খবর পারলো না নিতে কেড়ে কিছু তার রেশ।
মননের শ্বাসে প্রেম ভালোবাসা
জাগালো তবুও অনন্ত আশা
অধীর আকুলে পৌঁছিনু একা রাতে ফুলিদের বাড়ি,
তখনও বইয়া চলছিল মনে যাতনার আহাজারি।
আহারের শেষে চৌকিতে বসে চাচা বললেন মোরে,
সবকিছু ভুলে নতুনের ত্রাসে তুলো না জীবন গড়ে!
যদি মানো সব ভাগ্যের লেখা
তবেই মিলবে শান্তির দেখা
নইলে আপনা সকলি হারাবে শেষে জীবনের বল,
সুখ কি কখনও এনে দিতে পারে দু’চোখের লোনা জল!
চাচী আর আমি ভরেছি হৃদয় একটাই আশা দিয়ে,
মহা ধুম ধামে তোমার সঙ্গে ফুলি মার দিবো বিয়ে।
তোমার বাবার খুব ছিল আশ
মায়ের বাঞ্ছা করবো কি নাশ!
তুমি যদি বাবা রাজি থাকো মনে দেখে এক শুভ ক্ষণ,
দু’জনার হাত এক করে দিবো আত্মায় বেঁধে মন।
চাচী বললেন কেন ভাবো চাঁদ আমি তো মায়ের তুল,
আমার ফুলিকে ও ঘরে তুললে হবে না তোমার ভুল।
লজ্জাতে রেখে জীবনটা বাজি
নমনে কইনু আমি আছি রাজি
মাত্র ক’দিন সময় দিবেন ডাক্তার দেখবারে,
দুখের দহনে অন্তরখানি ভরেছে যে হাহাকারে।