| কবিতা | ভাঙ্গা জীবন (পর্ব-৬) |
| কবি | বোরহানুল ইসলাম লিটন |
| লিখার স্থান | পাঁচুপুর, আত্রাই, নওগাঁ। |
সারাদিন ফুলি পাশেই থাকতো করতে সকল কাজ,
দিনের অন্তে বাড়ি ফিরে যেতো নামলে তবেই সাঁঝ।
বন্ধ করে সে কলেজের পড়া
স্বপ্ন গড়লো সংসার করা
শোকের কাতরে দিনে দিনে মা’র ভাঙতে লাগলো দেহ,
হৃদয়ের ব্যথা আপনা বিহনে জানলো না আর কেহ।
কতো নশ্বর জীবন রে দোস্ত বুঝেছি কয়েক দিনে,
সুখগুলি মোর অবাধে দুখেরা যবে নিয়েছিলো কিনে।
জানি না এ কোন ভাগ্যের খেলা
ভাবতেই রোজ কেটে যেতো বেলা
এক নিমিষেই পাল্টিলো যেন চির চলনের পথ,
কান্না দুঃখ চিরসাথী করে চললো তবুও এ রথ।
কতো যে কষ্টে সংসার ঘানি টেনেছে আমার বাপ,
বুঝিনি পূর্বে বিধাতায় যেন করে দেন মোরে মাফ।
খাটুনিতে চলা জীবন আমার
তবু মিলতো না তেবেলা খাবার
ভাবতাম বসে বাবার মতন ছায়া কি ধরাতে আছে!
যার হারিয়েছে সেই বুঝে দুখ চলনের প্রতি শ্বাসে।
বুকে রেখে চাচা পিতার আদরে স্নেহের ছিলো না শেষ,
সজলে শুনাতো ধর্মের বাণী কর্মের উপদেশ।
ডেকে নিয়ে গিয়ে নামাজের কালে
জুটাতো শান্তি নিরাশার ভালে
আমি যেন তার নয়নের মণি চোখের আড়াল হলে,
ডেকে পাঠাতো সে খবরে খবরে বারে বারে নাম বলে।
কর্মের ভিড়ে যদি বা কখনো মিলতো একটু ঠাঁই,
নিভৃতে একা কাঁদতাম বসে আমগাছটার ছায়।
বাজানকে বলে আনমনে কথা
ভুলে থাকতাম হৃদয়ের ব্যথা
বারে বারে ছুঁয়ে হাত দু’টি দিয়ে কবরের তৃণ ঘাস।
ওখানে যে মোর ঘুমায়ে রয়েছে সারা জীবনের আশ।