কবিতা ভাঙ্গা জীবন (পর্ব-৫)
কবি বোরহানুল ইসলাম লিটন
লিখার স্থান পাঁচুপুর, আত্রাই, নওগাঁ।
Review This Poem

আশা ভরা দিন চলছিল বেশ স্বপনের জাল বুনে,
ভাবিনি কখনও খেয়েছে যা সুখ নিভৃতে জরা ঘুণে।
পিতায় পড়লো বিষম অসুখে
ঢাকলো সকলি শোকাতুর দুখে
ছায়াহারা হয়ে অন্তর যেন হয়ে গেলো নিরুপায়,
সাঁতার বিহনে অথই পাথারে কূল পাওয়া হলো দায়।

বাবার কর্মে সংসার চলা আর তো আসে না টাকা,
ছল ছল চোখে মা’র চাহনিতে সব দেখেছিনু ফাঁকা।
লেখা পড়া ছেড়ে কাস্তে কোদালে
ভাবি ‍সুখ নিবো আবার দখলে
রাত্রি দিবসে খেটে যাবো মাঠে ফোটাতে সবার হাসি,
ভাগ্যটা তবু দেখা দিলো হয়ে বেঘোর সর্বনাশী।

একদা নিশীথে পিতা ডেকে মোরে শিথানে বসায়ে কয়,
ক্ষণকাল গড়া ধরণীর বুকে কেউ থাকবার নয়।
সময় হয়েছে যাবো পরপারে
না কেঁদে থাকিস সবার আদরে
কখনোই দূরে যাবি না কিন্তু মায়ের পা’দুটি ছেড়ে,
নইলে যে আমি চিরতরে যাবো আত্মার কাছে হেরে!

সারারাত ভর কতো স্মৃতিকথা কতো উপদেশ বাণী,
প্রভাতের কালে বললো আমারে দে বেটা একটু পানি।
পানিটুকু খেয়ে চক্ষু বুজলো
বাবা কভু মোর আর না উঠলো
দেহখানি ছেড়ে প্রাণ পাখি গেলো দূর অজানায় উড়ে,
সকালেই তারে আমগাছ তলে শোয়ায়ে রাখনু গোরে।

চাচা চাচী বলে ভাবিস নে চাঁদ ‘আমরা কি তোর পর!’
হাতে হাত রেখে আবার সকলে খুশিতে ভরাবো ঘর।
মোরা খুশি হলে দুনিয়ার পরে
পিতা খুশি হবে ঘুমায়ে কবরে
বিধাতায় হেসে সম্মানী দিলে স্বর্গের দ্বার খুলে।
নামাজ অন্তে কখনও যাসনে দোয়া করবারে ভুলে!

guest
0 Comments
Newest
Oldest Most Voted