| কবিতা | ভাঙ্গা জীবন (পর্ব-৪) |
| কবি | বোরহানুল ইসলাম লিটন |
| লিখার স্থান | পাঁচুপুর, আত্রাই, নওগাঁ। |
খাতার ভিতরে পত্র লুকায়ে পরদিন দিয়ে হাতে,
বলেছিনু শুধু পড়িস কিন্তু একা নিরালায় রাতে।
কি যে ঘাম ঝরা গায়ের কাঁপন
অন্তর যেন খোয়েছে আপন
তাড়াতাড়ি হেঁটে বাড়ি ফিরে এসে বিছানে পড়তে বসে,
অন্তর যেন বারে বারে মোরে ভরে চলছিলো দোষে।
নিদ্রা বিহনে রাত কেটে গেলো বিরহী পাখির মতো,
শঙ্কা ভীতির মেঘ জমে সদা ডাকছিলো অবিরত।
কি করে যে দোস্ত বুঝাবো তা তোরে
বাইরে বেড়োয় খুব বেশি ভোরে
হৃদের জ্বালায় মনে হলো কাঁদি চাপড়ে নিজের গালে,
ফুলির সঙ্গে দেখা হলো ঠিক কলেজে যাবার কালে।
শীতল নজরে তাকায়ে কইল লিখেছো সবি তা মানি,
বলো দেখি মোরে অন্তর থেকে ভালোবাসো কতখানি!
পারবে কি মোরে সোহাগে আদরে
সারাটা জীবন প্রেমের চাদরে
দিবা-নিশি রেখে বক্ষে জড়ায়ে জীবন করতে পার?
তুমি কি গো মোর রাখবে না বলো এতটুকু আবদার!
পিপাসু পরানে চাতক বুঝি বা পেলো নীরদের বারি,
শুস্ক অধর প্রাণ পেয়ে তাই নিঃশ্বাস দিলো ছাড়ি।
অন্তরে উঠে খুশির জোয়ার
খুলে দিলো সব বন্ধ দুয়ার
অজানা আশায় ভাবনার মাঝে ঢেলে মমতার বান,
নিরাশায় গড়া শঙ্কা ভীতির কেড়ে নিয়ে শত প্রাণ।
মুখপানে চেয়ে বলেছিনু তারে হস্ত বুলায়ে চুলে,
এ জীবনে আমি কেমনে থাকবো বল দেখি তোরে ভুলে!
সপেছি যে তোরে যা ছিল মনন
যারা বিনে মোর নিঃস্ব জীবন
চন্দ্র বিহনে রাতের আকাশ আঁধারে যেমন ঢাকে,
আমি কি বাঁচবো তোকে ছাড়া বল ডুবে মরণের বাঁকে!