| কবিতা | ভাঙ্গা জীবন (পর্ব-২) |
| কবি | বোরহানুল ইসলাম লিটন |
| লিখার স্থান | পাঁচুপুর, আত্রাই, নওগাঁ। |
বাবা মা মোদের ছোট পরিবার ছিলো না পাতের কেউ,
দিবা-নিশি যেতো সংসারে বয়ে সুখ সায়রের ঢেউ।
আমি দু’জনার নয়নের মণি
আমার স্বপ্ন সর্বদা বুনি
ভাবতে তাদের দিন যেতো তবু ভাবার হতো না শেষ,
ঘুমাতেও যেন রাত্রি বেলায় থাকতোই তার রেশ।
সকাল দুপুর ইস্কুলে আর বিকেলে খেলার মাঠে,
সুযোগ পেলেই খেলাপাতি খেলা গোসলে নৌকা ঘাটে।
কভু বা পেতাম বরশি এ হাতে
সময়ের জ্ঞান থাকতো না মাথে
কাদা মাখা গায়ে দিনটা কাটতো ডোবা পুকুরের জলে,
লাঠি হাতে তাই মা মোর খুঁজতো সারা পাড়া নাম বলে।
যদি বা কখনো জেদে কাঁদতাম গঞ্জে যাবার আশে,
কাছে ডেকে বাবা সযতনে টেনে বসাতো নিজের পাশে।
কতো যে চেষ্টা ভুলানোর তরে
জেদ যদি তাতে একটু না নড়ে
সাথে করে মোরে নিয়ে যেতো হাটে হাত ধরে এক হাতে,
ক্ষণিক চলতে হস্ত বুলাতো বারে বারে মোর মাথে।
ফুলি ছিলো মোর সবচে’ আপন নিত্য খেলার সাথী,
পাশাপাশি থেকে কেটে যেতো ক্ষণ খেলতে চড়ুইভাতি।
ও হলো আমার দীনু চা’র মেয়ে
কাটাতো সে দিন খেলে আর গেয়ে
খুনসুটি ভরা দুষ্টুমি গাঁথা কতো তার অভিমান,
চোখের আড়াল হলে মোর খোঁজে করতো সে আনচান।
হাতে হাত ধরে ছুটে চলতাম শস্য সবুজ ক্ষেতে,
খুব মজা হতো বৌচি খেলায় থাকতাম যদি মেতে।
এ যে গড়া এক মায়ার বাঁধন
আত্মার সাথে গাঁথা সে আপন
দিনে দিনে যেনো বয়সের সাথে বেড়ে হৃদয়ের টান,
নিভৃত মনে জেগে উঠে সুর হয়ে জীবনের গান।