কবিতা লাশকাটা ঘর
কবি আজিজুল হক
সময় ৬/৯/২৩
উৎসর্গ শিক্ষক সমাজ কে
লিখার স্থান কোচবিহার ,পশ্চিম বঙ্গ
সম্পৃক্ততা বর্তমান সমাজ
কবিতার বিষয় জীবনমুখী, প্রকৃতি, ভারতবর্ষ
Review This Poem

রাস্তায় তখন অজস্র লাশের ভীড়,
সবাই হামাগুড়ি দিচ্ছে স্বর্গ সন্ধানে!
মিছিলের ও প্রান্তে কয়েকজন যুবক জোড়ে জোড়ে চিৎকার করছিল,
এই মৃত্যুর বিচার চাই..
নিরীহ বিচারক হৃষ্ট চিত্তে রায় দানের আগে ভেবে নিচ্ছেন লাশ গুলোর সঙ্গে ভবিষ্যতের ফারাক কোথায় !
মায়ের কোল খালি তো রোজই হচ্ছে..
আসলে জন্ম থেকেই তো আমরা এক একটা লাশ।
ছেলেটা দারুন রেজাল্ট করল ,
শিক্ষক বুক ফুলিয়ে তাকেও সম্বর্ধনা দিচ্ছেন,
ছেলেটা মাসে এক আধ দিন বিদ্যালয়ে পা দিলেও খুব একটা পরোয়া করেনি রুটিন রেওয়াজের!
লাশের ভীড়ে মিশে গিয়ে সেও অজস্র নম্বরের ভীড়ে চাঁপা পরে গেছে মাত্র!
শিক্ষক দিবসের সব চেয়ে ফাঁকিবাজ মানুষগুলোর
হাত তালি তে হলঘর কলোরিত হয়..
নেতা আসেন , বুলি আওড়ান,
লাশ গুলো সহাস্যে ঝলসে উঠেন..
মালা পড়ান তার হাতে,
যাকে লাস্ট বেঞ্চে দেখেছিলেন কয়েকদিন রতন স্যার!
ছেলেটা আজ নাকি বড় ভোট ব্যাংকের হাতিয়ার।
দলছুট কিছু মানুষ
খাদ্যের লোভে পাড়ি জমান সমুদ্র পারের সূর্যাস্তের সন্ধায়!
দু জোড়া চোখ ভালোবাসার নামে আদিম হিংস্রতায় মেতে ওঠে শুধু…
তারপর কেউ হয়তো ছেড়ে দেয় হাত,
কেউ বা জন্ম দেয় আর একটা রক্তাক্ত লাশের!
রতন স্যার ভীষণ রেগে উঠেন,
আসলে আধুনিক শিক্ষা কারখানার প্রযুক্তিকরনে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেননি আজও হয়তো!
হেড মাষ্টারের চেম্বার গুলো হয়ে উঠছে পার্টি অফিস নয়তো বা চামচাদের ডাড়িঘর!
রোজ দশ টা চল্লিশ টু চারটে ত্রিশ…
তারপর টোল গুলোতে অপেক্ষারত লাশেদের ভীড়ে নিজেদের মিশে যাওয়া!
স্বাধীনতার স্বাদ তুমি তো পেলে না ক্ষুদিরাম!
পাশের বাড়ির ছেলেটা তাই আজও অসম প্রতিযোগিতার
ভীড়ে লাশের মিছিলে ভীড় বাড়াচ্ছে প্রতিদিন!
লাশকাটা ঘরে পোস্টমর্টেমের নামে চলে ভাগ বাটোয়ারা ..!
কিছু মানুষ ছুটছেন তবুও ..
কয়েকটা ছোকরা মিছিল করছে তবুও …
এ মৃত্যুর বিচার চাই…
রতন স্যার তখনও শুনছেন সমুদ্র সৈকতের কোন এক সন্ধের শঙ্খধ্বনি…
মা গঙ্গা নামছেন পর্বত বেয়ে..
লাশগুলো ভেসে যাচ্ছে নির্বিবাদে ..
তার মাথার পেছনে হাত রেখে
স্নিগ্ধ সহাস্য দৃষ্টিতে দাড়িয়ে
অজস্র রতন স্যার আর বিচারকের বুক বিদীর্ণ করা অজস্র মিছিল।
© আজিজুল হক
৬/৯/২৩

guest
0 Comments
Newest
Oldest Most Voted