| কবিতা | অন্য কবিতা |
| কবি | আজিজুল হক |
| সময় | ৫/১১/২৬ |
| লিখার স্থান | কোচবিহার |
কিছু মুখ ক্রমশ পরিণত হয় অঙ্কে।
আমি মানুষের ভেতরের করিডোরে হাঁটি, বন্ধ দরজাগুলোর শব্দ শুনি।
আর কেউ নামের বদলে চিহ্ন রেখে যায় কপালের ওপর।
ডান পাশে বানরের রাজ্য থেকে একটি দীর্ঘশ্বাস আসে,
বামে ধানক্ষেত পেরিয়ে আরেকটি অসমাপ্ত যুদ্ধ।
আমি ঝুঁকে দেখি,
জল কেবল ঢেউ ফিরিয়ে দেয়, উত্তর নয়।
এরই মধ্যে ইতিহাস নিজের পোশাক বদলায়।
সকালে যে সাক্ষী, রাতে সে হয়ে ওঠে বিবরণ।
আমার সামনে একটি অনাবৃত রাত দাঁড়িয়ে থাকে।
তার শরীরে লেগে থাকে ধুলো, রক্ত, তারার গুঁড়ো, আর কয়েকটি বিস্মৃত নাম।
পাশে সময় শুয়ে থাকে শামুকের মতো।
আমি তখন ভাবি, কোন মাটিতে প্রথম বীজ রাখা হয়েছিল।
আমার ভেতর একটি অন্ধকার ঘর আছে।
সেখানে প্রতিদিন অদৃশ্য কারিগররা কাজ করে।
ভাষা জন্মায়, শরীর জন্মায়, স্বপ্নের হাড়গোড় তৈরি হয়।
কিন্তু ভোর হলে সবাই শুধু প্রাসাদের দিকে তাকায়।
ভিতের দিকে নয়।
মাঝে মাঝে লোহা তার নিজের প্রতিবিম্ব দেখে সূর্য ভেবে ভুল করে।
মাঝে মাঝে মানচিত্রের ক্ষতচিহ্ন ফুলের নামে বিক্রি হয়।
আর পতাকার কাপড়ে লেগে থাকে অদেখা কান্নার লবণ।
তবু আমি থেকে যাই।
সকালে সভ্যতা ঘুম থেকে উঠে নিজেকে অটুট দেখে।
শুধু তার সিঁড়িগুলো সারারাত কোন শরীরের ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে ছিল,
সে কথা মনে করতে পারে না।
……… ……..