| কবিতা | অন্ধকার ভাটির প্রজাতন্ত্র |
| কবি | নাজমুল ইসলাম |
| লিখার স্থান | কাচারী, ময়মনসিংহ। |
এইযে বিশাল পুরোনো দুর্গ—
দেয়ালে দেয়ালে ফাটল, তবুও রং চড়িয়ে
ঘোষণা করা হচ্ছে সবই স্থিতিশীল।
দুর্গদ্বারের সামনে দাঁড়িয়ে দু’দল প্রহরী,
একদল বাঁশি বাজায় এখানে শান্তি, এখানে স্বর্গ,
অন্যদল ঢাক পেটায় এখানে অন্ধকার।
কিন্তু ভেতরের মানুষেরা জানে—
দুই সুরের মাঝখানে লুকিয়ে আছে ঝড়ের শব্দ।
চরের মাটিতে রাজনীতি এখন,
দুই নদীর টানাটানি।
এক নদী পুরোনো স্রোতের নামে স্রোত নেই,
অন্য নদী নতুন গতি আছে, গভীরতা নেই।
দু’পাশের মাঝেই আটকে পড়ে
মানুষ নামের ছোট ছোট নৌকা—
নোঙর ফেলবে কোথায় বুঝে ওঠার আগেই
জলোচ্ছ্বাস তাদের দিক পাল্টে দেয়।
আকাশ যেন বড়াইকারী ফেরিওয়ালা—
কখনো রোদের প্রতিশ্রুতি দেয়,
কখনো আবার কালো মেঘের ভয় দেখায়।
মানুষ জানে, তার কথা বিশ্বাসযোগ্য নয়,
তবু তাকিয়েই থাকে একটু আলো পাবার আশায়।
বনের ভিতর শেয়ালেরা সম্বেলন ডাকে—
কে কতটা ডাক দেবে, কে কার অংশ নেবে
সেই হিসাবেই নাকি স্থির হয় সিদ্ধান্তের ভাগ।
হরিণেরা দূর থেকে শোনে,
কিন্তু দৌড়ানো ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।
এখানে রাত গভীর হলে
এক অদৃশ্য পর্দা টানা হয়—
যেখানে সত্যের চেহারা কুয়াশায় ঝাপসা,
মিথ্যের কণ্ঠস্বর বরং স্পষ্ট।
দেখি দূরের কোনো চাতালে
মিলের আলো জ্বলে ওঠে হঠাৎ—
কারা চালায়, কীসের জন্য,
সেই প্রশ্নগুলো বাতাসে হারিয়ে যায়।
দেশটা যেন অপেক্ষায় দাঁড়ানো প্রজাতন্ত্র—
যেখানে ভাটির জল কমে না,
তবু জোয়ারের আশায় সবাই তাকিয়ে থাকে
কিন্তু দিগন্তে লুকানো চাঁদ
এখনো উঠতে শেখেনি।
তবু আশ্বানিত চিত্তে
এক প্রাচীন বটগাছের শিকড় ফিসফিসিয়ে বলে—
“ঝড় যতই তীব্র হোক,
অতিরিক্ত অন্ধকার নিজেই একসময় আলো জন্ম দেয়।”