কবিতা জ্বীবাশ্ম এবং ইতিকথা
কবি আজিজুল হক
লিখার স্থান কোচবিহার, পশ্চিমবঙ্গ, ভারতবর্ষ
কবিতার বিষয় আশা, জীবনমুখী, প্রকৃতি, প্রতিবাদ, প্রেম, বিরহ, ভারতবর্ষ, রাজনৈতিক, সমসাময়িক
Review This Poem

হয়তো , কোনো একদিন,

তোমার শরীরের ত্বকের গোলাপি রং ফিকে হয়ে যাবে
দুচোখের সোনালী ফ্রেমের চশমাও আরও বেশি ক্ষমতা সম্পন্ন হয়ে তোমার বার্ধক্যের ঘোষণা করবে
দিনের অন্তিম কাল!

আমার চোখে ভেসে উঠবে সবুজ শাড়িতে তোমার দুষ্টু চোখের আড়াল করা হাসি,
আর তোমার না পছন্দের আমার সেসব কবিতার পাণ্ডুলিপিগুলো
তখন কয়েকশো গেছো ইঁদুরের আপ্যায়নের যন্ত্রনায় ফসিলে রূপান্তরিত।

সমস্ত মিউজিয়াম জুড়ে খুঁজেও পাবে না অস্তিত্ব বিহীন কোন কবিতার কোন একটি পঙ্গতি।

আমার মতো অনার্য কোন এক ঐতিহাসিক যন্ত্রনা
তখন প্রাগৈতিহাসিক ,প্রোটোগনিস্ট
প্রেমিকের চোখে হাস্যস্কর হয়ে উঠবে।

আসলে আমাদের আষ্ঠেপিষ্ঠে
জড়িয়ে রেখেছিলো
কিছু অন্ধকার ধাঁধা,
আমরা ঘুরপাক খাচ্ছিলাম মিছে ইশারায় মিশরীয় সভ্যতার চারিপাশে
সেখানে মুসার আগমনে আমাদের
সম্পর্কের এক্সডাস ঘটে।
মহেঞ্জোদারোর গভীর পরিখায়
আর্য পুত্রের লোমহর্ষক কামুক চোখের আগুনে পুড়ে ছাই হল আমাদের সব প্রেম!

সে কথা জানতে তুমি।

আমিও নির্বোধের মত তখনও তোমার উষ্ণতার পরশ খুঁজেছি…
আমার কবিতার জন্ম হয়েছে রোজ তাতে।
আমার কবিতায় বারংবার এসেছো তুমি সেই আর্য পুত্রের গোগ্রাসে গিলে খাওয়া
একজন হেরে যাওয়া নারী হিসেবে।

সে সব কথা জানা আমার,
সামুদ্রিক বন্দরে কতবার নোঙ্গর ফেলেছে আমার চোখ,
দেখেছে তোমার অভিসার
উপত্যকায় আদিম হিংস্রতায়।

যুদ্ধক্ষেত্র থেকে লেখা নেপোলিয়নের লেখা চিঠি গুলো তার প্রেমিকার হাতে
কে বা কারা পৌঁছে দিয়েছে,
সে কথাও আমার জানা আছে,
হেরে যাওয়া রনক্লান্ত আমিও নেপোলিয়নের মত রোজ লিখছি তোমাকে…
অজস্র পাণ্ডুলিপির জ্বীবাশ্ম,
সে সব অর্থহীন,
শুধুই অর্থহীন জীবনের
ইহ-লৌকিক পয়গাম।

guest
0 Comments
Newest
Oldest Most Voted