| কবিতা | অপেক্ষারত |
| কবি | সুজিত কুমার ভৌমিক |
| কাব্যগ্রন্থ | প্রতিবাদ |
| সময় | ২০২৩ |
| উৎসর্গ | সুকুমার ভৌমিক |
| লিখার স্থান | চন্ডীপুর |
| সম্পৃক্ততা | জীবনমুখী, প্রতিবাদ |
| কবিতার বিষয় | জীবনমুখী, প্রতিবাদ |
অপেক্ষারত....
************
সুজিত কুমার ভৌমিক
*******************
স্বাধীনতার কচ্ছপ-খোলে,
ভুলে গেলাম প্রতিবাদ।
ভুলেই গেলাম,ভুলতে বসলাম,
প্রতিবাদী আচরণ, প্রতিবাদী চরিত্র।
তিরিশটি গ্রীষ্মের সঠিক কঠিন শাসন,
করায়ত্ত মুষ্টিমেয় উপদেষ্টার উপহার,
উপভোগ করতে থাকলাম।
এরপর! কালবৈশাখী নকশালদের
নতুন নির্মম নকশা।
এক প্রকার যন্ত্রণাক্লিষ্ট হতে হতে,
নিজেদেরকে গুটিয়ে রাখলাম শামুকের মতো।।
হারিয়ে যাওয়া প্রতিবাদকে একসুরে বাঁধলাম,
সাবুদানার মত।
পরিশেষে সংগঠিত প্রতিবাদকে,
ভীমাকার করে নকশালদের নকশাকে,
বাস্তিল দূর্গের মতো চূর্ণ বিচূর্ণ করে,
ভেঙ্গে দিলাম মানুষ হাতুড়ি দিয়ে।
লাগালাম গনতন্ত্রী এক চারাগাছ।।
গাছটি বড় হয়ে ফুল দিল,ফল দিল।
গাছটি ছায়া দিলো।
আমরা উপভোগ করতে আরম্ভ করলাম।
কিন্তু এ কী দেখী?
চৌঁইত্রিশ বছর পর থেকেই গাছটি
না দিচ্ছে ফুল, না দিচ্ছে ফল,
না দিচ্ছে কোন ছায়া!!
বিষ-বাষ্প ছড়িয়ে পড়ছে চারিদিকে,
আমাদের শ্বাসনালী বন্ধ হতে লাগল!
হারিয়ে যাওয়া প্রতিবাদকে,
আবার সংগঠিত করলাম।
তিল তিল করে হারিয়ে যাওয়া,
প্রতিবাদকে, প্রতিবাদী চরিত্রকে,
প্রতিবাদী যুক্তিকে এক করে,
সেই বিষবাষ্পের বিষবৃক্ষকে একেবারে,
নির্মমভাবে উৎপাটিত করলাম।
লাগালাম আরো এক স্নেহময়ী চারাগাছকে।
চারাগাছটি বড় হতে লাগল।
বৃহৎ আকার ধারণ করতে লাগলো।
গাছটি ফুল দেয় না,মেনে নিলাম।
ফল দেয়না, তাও মেনে নিলাম।
ছায়া দেয় না,তাও মেনে নিলাম।
কিন্তু একী!! এ কী দেখি?
এ যে বিষময় গাছ!
অনুভবে বুঝলাম কষ্ট হচ্ছে,
ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একেবারে ধ্বংস
থেকে ধ্বংসতম হতে যাচ্ছে।
আমাদের আশা, আকাঙ্ক্ষা, ভালোবাসা,
সব একেবারে পর্যবেশিত হচ্ছে,
কোন এক গ্রহণ অন্ধকারে,
যেখান থেকে বোধকরি উঠে আসা সম্ভব নয়।
ছিন্ন ভিন্ন বেহালার তারে সুর দিয়ে ভাবলাম--
এখনও কী সময় হয়নি প্রতিবাদী হওয়ার?
এখনো কি আমাদের প্রতিবাদ
সংগঠিত করার সময় আসেনি?
উত্তরের অপেক্ষায় আজও বসে
অপেক্ষারত গোডোর মত...।