কবিতা বস্তিতে লকডাউন
কবি সুজিত কুমার ভৌমিক
কাব্যগ্রন্থ প্রতিবাদ
সময় ২০২০
উৎসর্গ সুকুমার ভৌমিক
লিখার স্থান চন্ডীপুর
সম্পৃক্ততা জীবনমুখী, প্রতিবাদ
কবিতার বিষয় জীবনমুখী, প্রতিবাদ, ভারতবর্ষ

বস্তিতে লকডাউন
*****************
সুজিত কুমার ভৌমিক

বস্তির ওই কয়লা কালো চয়না,
লকডাউনের ও কিছুই বোঝে না।
তার বস্তির সামনেই এক বিশাল প্রাসাদ।
পাকড়াশিদের এক অনবদ্য আস্বাদ।
লকডাউনের আগে তবুও,
এ বাড়ি ও বাড়ি কাজ করত।
কোনরকমে তালিতোপা দিয়ে পেটটা ভরত।
সরকারী ইস্কুল তার বাড়ির সামনেই।
ওখানে সে তো প্রতিদিন যাবেই।
সরকারী ব্যাগ,খাতা,বই,সবই পেয়েছ ও।
তবে সবচেয়ে বড় মিড-ডে মিল তো!
ওটা পায় বলেই তো যায় ইস্কুল।
শুধু পড়াতেই সর্বদা হয়ে যায় ভুল।

তবে এবছর সরস্বতী পূজোর প্রীতিভোজে,
ঘটে গেল এক নতুন ঘটনা সাজে।
মাংসভাত খেয়ে বাড়ী ফিরছিল সে।
হঠাৎ দেখে বস্তির সামনে,
এক জমায়েত দাঁড়িয়ে আছে।
আস্তে আস্তে সামনে এগোল সে।
যেমন করে শামুক এগিয়ে চলে।
একী? এ যে তার বাবা!
শুয়ে আছে কেন বস্তির সামনে?
মুখ দিয়ে ফেনা বেরিয়ে যাচ্ছে।
নাক দিয়ে রক্তনদী গলগল করে।

"বীষমদ তোর বাবার জীবন,নিয়েছে আজ কেড়ে!"
রামুকাকু বলে উঠল, এগিয়ে এসে তেড়ে।।
চয়নার চোখ স্তব্ধ হলো, কাঁপতে লাগল মুখ।
ছোট থেকে বড়ো হলো চোখ,উধাও হলো সুখ।
আছড়ে পড়ে বুকের উপর,বলে উঠল--"বাবা!
ছিনিয়ে নিলে মোদের সুখ,মোদের জীবন আশা।"

তারপর থেকে সংসার ছিলো বড়োই বেদনাময়।
মা ও মেয়ে বাড়ী বাড়ী গিয়ে, ছিলো কর্মময়।
মাও কেমন পাল্টে গেল, দিনের পর দিন।
একটি গাড়ী হর্ন বাজাতো মোড়ে প্রতিদিন।
একদিন সে মাকে ডেকে, বলল-" মাগো মা মা",
কে উনি? কার গাড়ীতে তুই যাস্?
এটা তো বলে যা"।
মা কেমন পাল্টে গিয়ে, চুলের মুঠি ধরলো,
-"কেনরে শালী!,তোকে সব বলবো?"

এইভাবেতে কাটতো জীবন চয়নার প্রতিদিন।
অবশেষে পৌঁছে গেল সেই অশুভদিন।
মা যেই বেরিয়ে গেল,দামী সেই গাড়ীতে।
লকডাউনের ঘোষনা হলো টিভির পর্দাতে।
ফিরে এলো না তার মা,কাঁদল সে শোকে।
ক্লাবের ছেলেরা খাবার দিলো, তাকিয়ে আড়চোখে।
লকডাউনের এতদিন, পেরিয়ে যাচ্ছে ওই।
কেউ আর দেয়না খাবার,কারোর দেখা নেই।
" মাগো তুমি আসবে কবে?"- চয়না বলে কাঁদিয়া।
পাকড়াশিদের ছোটবাবু চেঁচিয়ে বলেন--
"আজকের মেনু ভেটকি মাছের কালিয়া "।

guest
0 Comments
Newest
Oldest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments