কবিতা অতীতের জীবন
কবি আলমগীর কবীর
সময় ০১-০৫-২০২০, ১২ঃ৩০am
উৎসর্গ আমার বাবাকে
লিখার স্থান কৈয়াডেপা, বিশালগড়
সম্পৃক্ততা স্মৃতি, অতীত, দরিদ্রতা, জীবন সংগ্রাম
4/5 - (1 vote)

মনে পরে সেই দিনের কথা
অভাব আর দরিদ্রতার সাথে
লড়াই করে কাটানো জিবন।
যেদিন খাদ্যের অভাবে ফ্যান আর
ঝাউ খেয়ে দিন কাটাতাম…!
ঘরের চাঁল বেয়ে চুঁইয়ে চুঁইয়ে
যখন জল পড়ত।
সেদিন হয়ত জীবন সাজানো নিয়ে
এতটা চিন্তা হতনা, এখন যতটা হয়।
সেদিন আকাশের বজ্রাঘাতের শব্দে
বাবার আদেশে চৌকির তলায় শুয়ে পড়তাম।
কিন্তু বাবা নিজের নিরাপত্তার কথা ভাবতেননা,
বাবা মেঝেতে থেকে আমাদের নিরাপত্তা দিতেন!
বাবা নামক মানুষটা এক অদ্ভুদ ধরনের,,
তখন শুধু দেখেই যেতাম,
অনুভব করার ক্ষমতা তখন ছিলনা।
দরিদ্রতার সাথে তুলনা করলে –
কখনো বুঝতে দেয়নি বাবা দরিদ্র কি জিনিস!
বাবা নৈতিক আদর্শে আদর্শিত ছিলেন।
একজন দিনমজুর, খেটে খাওয়া মানুষ।
শিল্পকর্মকারী ও সুমধুর বাউল শিল্পিও বটে।
যদিও বাবা সংসারের কষ্ট বুঝতে দিতেননা,
কিন্তু বাবার দৈনন্দিন গাওয়া গান থেকে
অতি সহজে বুঝতে পারতাম।
সর্বদা সত্যের পথে চলতে
উপদেশ দিতেন বাবা।
একজন বাস্তববাদি চিন্তাশীল ব্যক্তি হওয়ায়
বাস্তব উদাহরণের দ্বারা শিক্ষা দিতেন তিনি।
সংসারের কাজের ফাকে যখন সময় পেতেন
তখনি নৈতিক আদর্শগত মনুষত্ববোধ
তাজা করার কথা বলতেন।
অকেজো কথা বার্তা, কাজ কমর্ম থেকে
বিরত থাকতে আদেশ দিতেন। বহু কষ্টে সংসার চলা সত্তেও, আমরা কষ্ট পেতামনা।
কারণ কষ্টকে ঢাকা দেওয়ার মত বাবা আছেন বলে।
আজ প্রাপ্ত বয়স হওয়ার পরও যেন
বাবার কোনো পরির্তন হয়নি!
অভাব আর দরিদ্রতার সাথে লড়াই করে
আজও আমাদের বাঁচিয়ে রাখছেন বাবা।
সেই অবুজ বালক, আজ বুঝতে শিখেছি,
চিন্তা, অনুভবও করতে শিখেছি— কিন্তু
তবুও যেন সেই বাবার সমতুল্য কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা অর্জন করতে পারিনি।
পারিনি সেই বাবার মতো করে অসহ্য হাজারো যন্ত্রনা ঢাকা দিয়ে রাখতে।
বাবার স্বপ্ন পূরণের পথ চলার গন্তব্য স্থানে এখনো পৌছুতে পারিনি।
একদিন বাবার দেখা সব সপ্ন হয়ত পূরণ হবে।
জানিনা ঐ দিন তিনি থাকবেন কি না…!!!
কিন্তু বাবা আমি জানি,
আমি হাজার জনমেও তোমার সমতুল্য সংগ্রাম করতে পারবনা।
কিন্তু তুমার দেখা স্বপ্নগুলো আমি পূরণ করব।
তোমার দেওয়া উপদেশগুলোও মেনে চলব….।

guest
0 Comments
Newest
Oldest Most Voted