| কবিতা | ভাঙ্গা জীবন (পর্ব-৭) |
| কবি | বোরহানুল ইসলাম লিটন |
| লিখার স্থান | পাঁচুপুর, আত্রাই, নওগাঁ। |
পরের জমিতে ফসল ফলানো ছিলো না মোদের কিছু,
অভাবটা যেন চির সাথী হয়ে ধরলো আমার পিছু।
মায়ের পথ্য হয় না যোগাড়
বেড়ে চলে তাই মনে হাহাকার
কি করে যে আমি বুঝাই রে দোস্ত তুই ছিলি বহুদূরে,
থাকলে বুঝতি দুখের অনলে কেন অন্তর পুড়ে।
দু’চোখের জল শুকালো দুঃখে অন্তর গেলো মরে,
মাতা কাঁদে মোর একেলা বিছানে শুয়ে থেকে এই ঘরে।
বারে বারে বসি পাশে গিয়ে তার
যদি কভু চায় একটু আহার
হস্ত বুলায়ে ডেকে বলি মাগো পেয়েছে কি তোর ভূখ?
মুখপানে চেয়ে অন্তর যেন ডুকরে বাড়াতো দুখ।
পিতা বিদায়ের শোক না ফুরাতে সেই অজানার জালে,
মাতা হলো পর ঠিক যেনো তার দুই বছরের কালে।
হারায়ে সকলি রক্তের ধন
কান্নার জল করনু আপন
দিবা-নিশি রেখে অন্তরে সদা ব্যথা বেদনার ঢেউ,
ফুলি বিনে চোখ মুছে দিতে মোর রইলো না আর কেউ।
বিদায়ের কালে মাতা ডেকে মোরে কি যে আকুলের শ্বাসে,
বললো আমারে রাখিস কিন্তু তোর বাজানের পাশে।
কাঁদিস নে বাপ দুখ ভরা মনে
চিরদিন কেউ থাকে না ভূবনে
তোকেও একদা চলে যেতে হবে ধরণীর মায়া ছেড়ে,
দোষ দিবি কারে যে দিয়েছে সব সেই যদি নেয় কেড়ে!
পিতা-মাতা আজ বিভোর ঘুমায়ে ওই আমগাছ তলে,
কখনো বা করি নামাজেতে দোয়া কখনো কবরে জলে।
সারাদিন কাটে তাদেরই তো পাশে
কেউ দেখে কাঁদে কেউ বা হতাশে
বারে বারে দেয় ভাগ্যের দোষ আফসোসে অনুমানে,
আমি নাকি এক অভাগা অনাথ সর্বহারা জীবনে।