| কবিতা | ভাঙ্গা জীবন (পর্ব-৩) |
| কবি | বোরহানুল ইসলাম লিটন |
| লিখার স্থান | পাঁচুপুর, আত্রাই, নওগাঁ। |
চাচা চাচী মোরে আপনার ভেবে খুব যে বাসতো ভালো,
আমি নাকি ধন সংসারে জ্বলা নিত্য দিনের আলো।
ভালো খাবারের হলেই যোগাড়
আমাকে তাদের খুবই দরকার
ডাকবার এসে দাঁড়ায়ে থাকতো ফুলি আমাদের বাড়ি,
আমি বিনে ওর খাওয়া তো হবে না চলি তাই তাড়াতাড়ি।
মায়ার বাঁধনে দুটি পরিবার দ্বন্দ্ব ছিলো না তাই,
মাতা চাচী যেন আপনার বোন পিতা চাচা ভাই ভাই।
ফুলি আর আমি ইস্কুলে পড়ি
ফিরতাম বাড়ি হাতে হাত ধরি
দিনমান চলা একসাথে যেন আত্মা একের প্রাণ,
নিশি রাতে জাগা গগনের বুকে জ্যোৎস্না আলোর চাঁন।
মা চাচী যখন গল্পের মাঝে বলতো মোদের কথা,
লুকায়ে শুনতে আমি আর ফুলি সবচেয়ে দামী শ্রোতা।
হৃদয় গহীনে কি যে শিহরণ
জানতো শুধু তা দু’জনার মন
চোখাচোখি হতে দু’জনেই হেসে হারায়ে সুখ সায়রে,
হৃদয়ের কোণে কতো যে স্বপ্ন আশা চলতাম গড়ে।
কালের গর্ভে মাস চলে গিয়ে অব্দ ফুরায়ে ঢের,
শিশু কৈশর কিভাবে হারালো একটু পাইনি টের।
অদম্য বল জীবনের রথে
দু’জনা চলনু যৌবনা পথে
পায়ে হেঁটে মোরা কলেজে পৌঁছি মাইল তিনেক দূরে,
চলনের পথও খুশি যেন হতো ছন্দ তালের সুরে।
এক বৃন্তের দু’টি ফুল সদা হাত ধরে পথ চলা,
এতো টা আপন তবুও হয়নি ভালোবাসি তাকে বলা।
কেমনে বলবো হৃদয়ে শঙ্কা
সব কেড়ে নিতো বাজায়ে ডঙ্কা
অবশেষে ভাবি পত্র লিখবো নিরালে রাতের বেলা,
হৃদয়ের কোণে যতই বসুক দ্বিধা দ্বন্দ্বের মেলা।