| কবিতা | ভাঙ্গা জীবন (পর্ব-১) |
| কবি | বোরহানুল ইসলাম লিটন |
| লিখার স্থান | পাঁচুপুর, আত্রাই, নওগাঁ। |
অনেক কষ্টে বসে বলে চাঁদ সয়ে গতরের ব্যথা,
শুনবি কি দোস্ত স্বপ্নের মতো ভাঙা জীবনের কথা!
এ কি শুধু মোর মননের ক্ষণ!
মিশে আছে শত আপনা স্বজন
জানলে বুঝবি গ্রাম বলে আমি কেন কাঁদতাম রোজ,
অজান্তে পেলে অস্ফুট ব্যথা দিবি কি আমারে দোষ?
চারদিকে ঘেরা ফসলের মাঠ মাঝে আঁকা এই গ্রাম,
জানি না কে কোন গুণী দিয়েছিল রূপপুর বলে নাম।
দেখে মনে হয় সবুজের বন
সদা কাছে টানে পথিকের মন
তারই মাঝে এই ছোট্ট কুটির দখিনে মোদের বাস,
প্রকৃতির রূপে মুগ্ধ এ মন তবুও মিটে না আশ।
আজান শুনলে জেগে উঠতাম রোজ প্রভাতের কালে,
রাত্রে ফিরতে দেরি হলে মা’র বকুনি জুটতো ভালে।
কি যে মায়া ভরা চলনের ক্ষণ
সব খোয়ে আজ শূন্য জীবন
কেমনে যে তোরে বুঝাই রে দোস্ত জীবনের কতো জ্বালা,
অন্তর কেন সকাতরে গাঁথে ব্যথা বেদনার মালা!
বন্ধু স্বজন খেলার সঙ্গী বাঁধা ছিলো এক ডোরে,
ভাবতেই যেন অন্তর উঠে উছল খুশিতে ভরে।
কতো দুষ্টুমি মধুমাখা স্মৃতি
সর্বদা মুখে পল্লীর গীতি
সব মিশে গেছে কালের গর্ভে স্বপ্নের ভরা আশা,
মন বুঝি তাই অকূলে গড়েছে দূর নীলিমায় বাসা।
গ্রামের দু’দিকে মেঠো পথ যেন সর্প গিয়েছে বেঁকে,
বাড়ি-ঘর সব রামধনু রঙে শিল্পী দিয়েছে এঁকে।
বটের বৃক্ষ দুই ধারে খাড়া
পত্র দুলায়ে দেয় সদা সাড়া
ধোঁয়ার মতোন মেঘগুলো হেসে অকাতরে দেয় ছায়া,
দেখলেই যায় বুকখানি ভরে জেগে অন্তরে মায়া।