| কবিতা | ছদ্মবেশী সম্রাট |
| কবি | অভিলাষ মাহমুদ |
| সময় | এপ্রিল ০৩- ০৭ সাল, এর পরও বেশ কবার এডিট করা হয়েছে। |
| উৎসর্গ | ছদ্মবেশী সম্রাট |
| লিখার স্থান | চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে একেক অংশ লেখা হয় |
| সম্পৃক্ততা | প্রেম- প্রেমিকা, প্রিয়তম- প্রিয়তমা। প্রকৃতি ধর্মীয়। রূপক। |
| কবিতার বিষয় | রূপক |
আমি মুক্ত— বন্ধনহীন।
আমি মুক্তির পাগল।
আমি বয়ে চলি অবিরাম হয়ে স্রোতস্বিনী।
আমি গদ্যে- পদ্যে মিশেল অগণিত কবিতার পংকতিমালা।
আমি সপ্তরঙে রাঙা রঙধনু।
আমি রূপ বদলাই বারবার।
আমি ছদ্মবেশী সম্রাট
তাই বারবার ধরি নানান বেশ।
ক্ষণে ক্ষণে রূপ বদলাই।
কখনো লোহিত, কখনো নীলাভ,
কখনো হরিৎ, কখনো হরিদ্রা,
কখনো শ্বেত, কখনো কৃষ্ণা।
কখনো হয়ে পড়ি বর্ণহীন।
কখনো হই প্রেমিক কিশোর
কখনো হই চৈত্রের খাঁ খাঁ রোদ
কখনো হই কিশোরীর জলতৃষ্ণ।
হরষের সিন্ধুতে বিষাদের উত্তাল মহাঊর্মি।
কখনো সম্মুখে ছুটে চলি হর্দম।
ফের লুটে পড়ি মৃত্তিকার কোলে।
কখনো আবার রোষে উঠি হয়ে তপ্ত হুতাশন।
কখনো আবার ছুটি হয়ে হিমেল সমিরণ।
কখনো শান্ত কপোতির মতো নিঃস্তব্দ হয়ে পড়ে থাকি।
কখনো সূচনা, কখনো অবসান,
কখনো শোরগোল, কখনো শান্ত।
কখনো দূর্বার, দূর্বোধ; দূজ্ঞেয়-
কখনো বা নুয়ে যাই পথ-প্রান্তরে।
কখনো সংকির্ণ কখনো বা দূর প্রসারী।
কখনো দুস্তর পারাবার…
কখনো শিকারী ব্যাঘ্র হয়ে ছাড়ি হঙ্কার।
কখনো আধিঁয়ার , কখনো আলোক,
কখনো শর্বরী, কখনো দিবালোক।
কখনো অর্যমা, কখনো শশধর।
আমি তিলোত্তমা ললনার দর্পণ
তাই তার রূপ দেখে আমাতে,
কখনো ত্বন্নী বালিকার চরণে শিঞ্জনী
আর ষোড়শির করে কঙ্কন।
কখনো ফরেনার, কখনো বাঙাল
কখনো ধনরাজ, কখনো কাঙাল।
কখনো ক্ষুদ্র , কখনো বৃহত্তম,
কখনো শীর্ণ, কখনো বলিয়ান।
আমি তাজ্জব! মহা তাজ্জব !!
আমি তাজিয়া ।
আমি তালেবর,
মহা তালেবর!
তালে তালে যাই বাজিয়া ।
কখনো অবিশাপ হয়ে ছুটি
কখনো আপনি হয় অবিশপ্ত।
কখনো গুপ্তচর
কখনো বা নাহি রই গুপ্ত।
মোর এহেন কথা শুনে লোকের
যায়রে দিশা হ’রি,
কেউ বা আবার পাগল ভেবে পলাই
পলাই ত্বরা করি।
কখনো দুশমনের দূর্গতি
কখনো ভয়ঙ্করী শিবানী,
কখনো ভয়ঙ্করী শ্রীমতি
মম বাসনায় মোর কর মোটে চেপে ধরি এই অবনি।
কখনো কালনাগ কখনো কালান্তর,
ছুটে যাই, উড়ে যাই দেশ দেশান্তর।
কখনো দূর্লঙ্ঘনীয়,
কখনো যমশখা, কখনো শড়েশ্বর।
কখনো খর্ব, কখনো দীঘল
কখনো সুপ্তিত, কখনো জাগরিত,
করে ধ্বজা ভালে রাজটীকা
কখনো অমুখর কখনো মখরিত।
কখনো প্রস্তর , কখনো ধূলি হয়ে উড়ে যাই পবনে।
কখনো দুরন্ত , কখনো ধীরস্থীর।
কখনো কিংশুক, কখনো সিরসিজ,
কখনো উগ্র, কখনো উদাসীন।
যবে স্বাদ জাগে তবে করি নৃত্য
নাহি মানি কনো বাঁধা।
উজির নাজির রাজা প্রজা
আমি-ই নবাব জাদা।
কখনো আমি হতে পারি
শাঁখের করাত শাঁখিনী,
কখনো ফের হতে পারি
নীল নয়না ডাকিনী।
আমি তপবল সাধন করে যাই
ফের তল্লাসিয়া ভগবান ব্যাকুল হইয়া যাই।
আমি পাগলের পাগলামি -
আর মাতালের মাতলামিও আমি।
আমি অষ্টদশি কন্যার চঞ্চলামন,
আমি ইন্দ্রালোকের স্বপ্নকন্যা।
কখনো রঙিন প্রজাপতি হয়ে
উড়ি হলুদ গাঁদা রাঙা পলাশফুলে।
কখনো আমি বেণী হয়ে দুলি
প্রেয়সীর মাতার কালো চুলে।
আমি রূপবতী অপসরা
কখনো মায়াজাল, মায়াবতী।
কখনো চলি লাফিয়ে-
কখনো হামাগুড়ি দিয়ে।
কখনো মধুময়, কখনো তিক্ত,
কখনো পূর্ণ, কখনো রিক্ত।
কখনো ফের সন্নাসী রূপ ধরে
সংসার ছেড়ে হই বনবাসী।
আমি চিত্তহ’রা প্রণয়ীনি
কখনো বিরহী প্রেমিক।
আমি শম্পা;
কখনো দৃশ্য, কখনো অদৃশ্য।
আমার লেখাটা অবশ্য বিদ্রোহী কবিতাটা পাঠ করার ৪ বছর পর লিখতে শুরু করি। ৩ সাল থেকে ৭ সাল লিখেছি, কেটেছি, যোজন বিয়োজন করেছি। পরে আরও করেছি।