| কবিতা | প্রবাস জীবন |
| কবি | জাহিদ হোসেন রনজু |
| সময় | ২৬ নভেম্বর ২০২৫ |
| উৎসর্গ | আমার পরিবারকে |
| লিখার স্থান | মিরপুর, ঢাকা |
| সম্পৃক্ততা | প্রবাস জীবনের সাথে |
এখানে, এই জরাগ্রস্ত প্রবাস জীবনে
শীতের পল্লবের মতন ঝরে পড়ে আমার স্বপ্নরা প্রতিদিন।
আমার কষ্টগুলো গুমরে গুমরে মরে হৃদয় অলিন্দে একাকী, নিঃশব্দে
টুপটুপ ঝরে পড়ে অবসরে আগ্নেয়গিরির লাভার মতন।
প্রতিদিন হৃদয়ে রক্তক্ষরণ
প্রতিদিন ঝড়ে পড়ে হাজারো স্মৃতি পান্ডুলিপির উঠোন জুড়ে।
কেউ কুড়ায় না সেগুলো
কুড়ানোর মতন কেউ নেই এখানে-
মা নেই,
বাবা নেই,
বোন নেই, ভাই নেই
তুমি নেই – সেই তুমি
যে তুমি ভোরের শিশির হয়ে সূর্যের সাথে হেসে উঠতে প্রতিদিন।
কিছুই নেই এখানে, এই প্রবাস জীবনে
হাড়ভাঙা পরিশ্রম আর অসীম শূন্যতা ছাড়া।
দিনান্তের ক্লান্ত দিবাকরের মতন দিনশেষে
ক্লান্ত-শ্রান্ত দেহমন যখন ফিরে আসে ঘরে-
তখন ইচ্ছেগুলো শ্মশানের চিতার অগ্নিকুণ্ডের মতন দাউদাউ করে জ্বলে
মৃত্যু বিষন্ন রাত্রির বুকে শুধু ইচ্ছেগুলো ডানা মেলে উড়ে,
খুঁজে ফিরে এখানে-ওখানে
প্রিয় শহর, প্রিয় ঘর, প্রিয় মানুষ
একটুখানি পরশ, একটু আদর, একটু ভালবাসা।
নেই, কিছু নেই, কিছুই নেই এসব এই চার দেয়ালে ঘরে, এই শহরে।
কষ্টগুলো ক্লান্ত হলে পরে
শুধু চোখে ভাসে বাবার ঋণ, বোনের বিয়ে,
ভাইয়ের টিউশন ফি
আরো পরিশ্রম, আরও, আরও টাকা
আর
বসের রক্ত চক্ষু, শত অন্যায়।
তারপর-
কুয়াশার চাদর পড়ে অন্ধকার নেমে আসে ঘুমন্ত প্রবাসী শহরে
আগামী দিনের আবার ঘানি টানা কথা মনে করে
বিছানায় এলিয়ে পড়ে অবিন্যস্ত জীবন-
সারারাত
একপাশ ফিরে শুয়ে থাকি আমি
অন্যপাশে –
শুয়ে থাকে দীর্ঘ হাহাকার, নীরব দীর্ঘশ্বাস।