কবিতা মায়ের মর্তে ভ্রমন
কবি সুজিত কুমার ভৌমিক
কাব্যগ্রন্থ মজার ফোয়ারা
সময় ২০২২
উৎসর্গ সুকুমার ভৌমিক
লিখার স্থান চন্ডীপুর
সম্পৃক্ততা আনন্দ ও মজা

মায়ের মর্তে ভ্রমন
****************
সুজিত কুমার ভৌমিক
********************
বরফের চাদরে মোড়া কৈলাস থেকে,
মনমরা হয়ে উঁকি মারতে লাগলেন মা দুর্গা।
হঠাৎ কিছু কাশফুল দেখতে পেয়েই,
মহাদেবকে ছুটে এসে বললেন--
'ওগো শুনছো? মর্তে যেতে হবে যে,
সে খবর রেখেছ?'
মুচকি হেসে মহাদেব বললেন--
" এই এক বছর তো মর্তের দিকেই তাকিয়ে ছিলে?
এ আর কি নতুন এমন?
কিইবা নতুন কথা বললে?"
'দেখেছো, দেখেছো, বাপের
বাড়ি কথা বললেই হলো?
যেন শিরা ফুলিয়ে ঝগড়া করতেই হবে?"
আমি চললাম, চললাম এক্ষুনি।
কোথায় গেলিরে সব?এই কার্তিকা --
"এই যে মা আমি বরফের উপর এখানে"
'চল, চল, চল এক্ষুনি যেতে হবে,
মর্তে মামাবাড়িতে।
"মামাবাড়ি! আমি রাজি, আমি রাজি"।
এইযে গণশা, কোথায় গেলিরে?
এক গামলা লাড্ডু নিয়ে তখন,
মুখ ফুলিয়ে খেতে ব্যস্ত গনেশ।
"দাঁড়াও মা বিরক্ত করো না"
'ওরে মামা বাড়ি যাবিনা?
বেরিয়ে পড়,আর সময় নেই যে!'
সরস্বতী তখন বীনাটা হাতে
নিয়ে রেওয়াজে ব্যস্ত---
সা-আা-আা-সা..সা..নি..সা...
দূর্গা এসেই বলল-
'কী রে যাবি না?
মর্তে, মামাবাড়ীতে?
এক বছর পেরিয়ে গেল যে বেরিয়ে পড়?'

'কিন্তু লক্ষী কোথায়?'
সবার মুখ চুপচাপ।
'সবকিছুর মূলে তোদের এই বাপ। '
নন্দী মৃদুগলায় বলল-
"মর্তের বঙ্গেতে প্রচুর লক্ষ্মীর অভাব।
দুদিন আগে শ্রীলংকাতেও গিয়েছিল লক্ষী কোনরকম সামাল দিতে।
এখন বঙ্গে ছুটেছে একা একা,
কোন এক কাজেতে
মহাদেবের আর্শীবাদ নিয়ে"।
'কী?আমার বাপের বাড়িতে,
ও আগে যাবে কেন?
ইয়ার্কি পেয়েছিস নাকি লক্ষীকে ডাক! লক্ষীকে ডাক?
আরে ওর তো অভিজ্ঞতা কম।
কখন খাটের নিচে ওকে
পুরে দেবে কে জানে?
কিংবা কোনো সিন্ডিকেটে
যদি বন্দী করে রাখে?
হায়, হায়, হায়, হায়,হায়,
কি হবে, কে জানে?
বেরিয়ে পড়, বেরিয়ে পড়।
আর দেরি নয়।
লক্ষীকে সাহায্য করতেই হবে,
চল চল চল।
আর দেরী যে না সয়!!!'

guest
0 Comments
Newest
Oldest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments