| কবিতা | জীবনের কবিতা |
| কবি | সুজিত কুমার ভৌমিক |
| কাব্যগ্রন্থ | প্রতিবাদ |
| সময় | ২০২২ |
| উৎসর্গ | সবিতা ভৌমিক |
| লিখার স্থান | চন্ডীপুর |
| সম্পৃক্ততা | প্রতিবাদ |
জীবনের কবিতা
***************
সুজিত কুমার ভৌমিক
*******************
জীবনের কবিতা লেখবো বলে,
বসে পড়লাম পরাজিত রবার্ট ব্রুসের মত।
বক সাদা পৃষ্ঠা এবং একটি কুচকুচে কালো পেন
নিয়ে বসে পড়লাম।
ভাষাটাও আস্তে আস্তে খুঁজে পেলাম,
ভাবটাও বহুকষ্টে আনার চেষ্টা করলাম।
নিজেকে মোপাসাঁ বা পেত্রার মত ভেবে
গভীর মনোযোগ দিলাম।
কত কথা মাথায় এলো রেললাইনের
মালগাড়ির ফাঁকা বগির মত।
আবার অনেক চলে গেল জলের বুদবুদের
মতো উধাও হয়ে।
আমি ভাবলাম হয়তো চোখ বন্ধ করলেই সব চেয়ে
ভাল জীবনের কবিতা লেখা যায়।
তাই আমি চোখ আলতো করে বন্ধ করলাম কর্নের ব্রম্ভাস্ত্র প্রয়োগের মত।
কিন্তু একী? এ আমি কী দেখি?
আমি স্তম্ভিত হলাম।
আমার বামেতে হাড় মাংসহীন বেকার-রা আমার দিকে তাকিয়ে বলছে--
-" পারবি লেখতে আমাদের নিয়ে কবিতা? "
আমার ডানেতে একজন আধপোড়া মৃতদেহ আমার দিকে আলতো করে চেয়ে
বলে উঠল-"বাঁচাও বাঁচাও..."
আমার সামনে সদ্য পোড়া মৃতদেহের গন্ধ
আমার নাকে এসে পড়ল।
পেছনে তাকিয়ে দেখলাম,
রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে রক্ত টপটপ করে পড়ছে।
রাজনিতীর কুচক্রী বানে বিদ্ধ কঙ্কালগুলি,
ছুটে আসছে আমার দিকে ধড়ধড় করে।
আমি পালানোর উপক্রম হতেই ওরা বলে উঠল
--"দাঁড়াও,দাঁড়াও কবি,
আমাদেরকে নিয়েও লেখতে পারবি?
মোদের নিয়ে কখনও কোন কবি লেখেননি।
ভুলে যাবি না তো মোদের!!!!!!"
আমি চোখ খুলে ভাবলাম,
জীবনের কবিতা লেখা,
এ আমার সাধ্য নহে।
আমি সাদা খাতা এবং কুচকুচে কালো পেনটা-কে,
জানলার সিলে তুলে, চেয়ে রইলাম বাইরের দিকে,
কোন বলি হয়ে যাওয়া মৃতদেহের স্তব্ধ চোখের মতো...