| কবিতা | দুইশো তেত্রিশ কিলোমিটার পথ |
| কবি | সোয়েব মাহমুদ |
| সময় | ২০১৯ এপ্রিল |
| লিখার স্থান | খিলক্ষেত |
দুইশো তেত্রিশ কিলোমিটার পেরিয়ে গেছে সেইসব দিন সযত্নে,
আসলে সকালগুলো, বিকেলের মধ্যবয়সী রমনী অথবা
দুপুরের মতন পকেটখাওয়া মধ্যবিত্ত পুরুষ নয়
যে বানিয়ে বানিয়ে সত্যের মতন করে মিথ্যে বলে দেবে তোমাকে।
আসলে,
তোমাকে আশ্চর্য করে দেবার কোন আশ্চর্য প্রদীপ ছিলোনা আমার কাছে,
শুধু জানতাম ভালোবেসে এইযে পাশাপাশি
আমাদের কাছাকাছি নিঃশ্বাস নেয়া অবস্থান,
এরচেয়ে আশ্চর্যের কিছু থাকতে পারেনা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডজুড়ে।
সে যাক পুরনো ঘাস থাকুক আমার বুক পকেটে।
তা আছো কেমন?
চোখ আজকাল খুব বেশিই কুঁচকে যাচ্ছে বোধহয়।
সানগ্লাস পড়াটা শিখে নাও ভালো লাগবে নতুন যিনি পুরাতন তোমার,
অথবা নতুন তোমার নতুন যিনি, তিনি বিমুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে থাকবে
সেজন্য দুইশ তেত্রিশ কিলোমিটার দূর থেকে আমি অপেক্ষায় আছি।
তা আজকাল মিলে যাচ্ছে খুব,
যে কথাগুলো বলেছিলাম কবিতায়,
যে কথাগুলো বলেছিলাম ঘুমন্ত তোমার দিকে অপলক তাকিয়ে জেগে থাকা আমি।
তোমাকে বলেছিলাম কবি'কে ভালোবাসার পর
তোমার ভেতর জেগে উঠবে
সুপ্ত থাকা ভালোবাসার নতুন ভূমি।
যদি কখনও কবি'র হাত ছেড়ে চলে যাও দূরে,
তখন এই নব্যভূমি তোমাকে মেরে ফেলতে
চাইবে ভালোবাসাহীনতায়।
অথচ আশ্চর্যের বিষয় হবে সেটাই যা
তুমি ভাববেনা কখনো।
তুমি জানবেনা তুমি কবিকে ভালোবাসো-
কবি তোমাকে ভালোবাসে,
তোমরা তোমাদের ভালোবাসো খুব,
খবর রাষ্ট্র হতেই জন্মাবে অজস্র প্রেমিক তোমার।
তারা অনেকেই বলবে তোমায় -
সাহস করে উঠতে পারেনি বলে বলতে পারেনি এতদিন।
তারা বলবে তোমায় অপেক্ষায় থাকবে তারা।
তুমি জানবেনা তোমার প্রেমিক একজন কবি
এ সংবাদের ভিত্তিতে তোমার শুভাকাঙ্ক্ষী হবে
প্রতি বর্গকিলোমিটারে একজন করে,
তোমাকে হঠাৎ ছেড়ে যাবে তোমার এতদিনের বান্ধবীরা
তোমার মন খারাপে ওরা আরো মনখারাপের
কান্ড ঘটিয়ে বসে থাকবে রোজ।
তোমাকে হতে হবে নিগৃহীত,
তোমার ভেতরে তোমার পারিপার্শ্বিকতা
জন্ম দেবে নব্য-বাস্তবতা নামক শুয়োপোকার।
তুমি দেখবে শুধু
এত এত গোয়েন্দা হবে তোমার,
এত এত সংবাদদাতা হবে তোমার
নিজস্ব মানচিত্র জুড়ে,
বিম্বিত ইতিউতি উঁকি মেরে
তোমাকে জানাবে তথ্য,
দেবে খবর,
কেবল তুমি কবি'কে ভালোবাসো এই প্রচারের পর।
হাহ
দহন গাঢ় নিদ্রা থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে,
কথা বলবো এখন দ্রুত।
শুনছো'তো...
সহনশীলতার কক্ষে
একদিন তুমি হেরে যাবে না বলে,
বলে দেয়া যাবে একদিন তুমি জিতে যাবে - ছেড়ে দেবে হাত কবি'র,
যা তোমার অবহেলার মনে হবে।
তুমি ছেড়ে যাবে শহর,
ফিরে যাবে পুরানো ডেরায়।
গিয়ে বলতেই তুমি পারমাণবিকবোমার নিরস্ত্রীকরণে হিরোশিমা নাগাসাকি ধ্বংসের ধ্বনিতে চলে এসেছো, ফিরে।
দেখবে তৎক্ষণাৎ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছগুলোর সংখ্যায়,
রক্ষণাবেক্ষণকারীদের আচরণের মতন,
তোমার কাছে চলে আসবে অজস্র প্রেমিক বন্ধু।
তোমার কাছে এসে চোখ মুছিয়ে দেবে
এত মানুষ যা পায়নি সৌদি আরব প্রজাতন্ত্র প্রধানও।
হুহু হাওয়া চেপে আছে -
একটু দাঁড়াতে হবে এবার, গলাটা শুকিয়ে কাঠ।
বেশি স্থিতিশীল সামষ্টিক অথচ ব্যক্তিগত শ্মশান আমার।
একটু দাঁড়াতেই হবে এবার,
সপ্তচ্ছদ রপ্ত করেছে বলে খবর রটেছে রসিকতার পাড়ায়।
প্রচন্ড জ্বর নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তুমি জানবে
কবি তোমাকে অবহেলা বৈ ভালোবাসেনি।
তোমার সু-হৃদেরা তোমাকে নবজীবনের,
ঋতু পরিবর্তনের কথা বলবে।
তুমি একজোড়া হাত ছেড়ে দিয়ে দু-সপ্তাহে ধরে ফেলবে নতুন হাত।
তুমি গাইবে গান, শুনেশুনে লোকে দেখবে,
কবি তোমাকে ভালোবাসে প্রকাশ্যে তাই তোমার শুভাকাঙ্ক্ষী বেড়েছে রোজ।
তোমার নব্যপ্রস্তরযুগীয় প্রেমিক
তোমার সকল অপূর্নতা পূরণ করে যাচ্ছে
তোমাকে ঘুম থেকে বের করে - হাহ..
এতটা নতজানু হয়নি হৃদয় আজো,
রিকশাটা পালটে ফেলি বিশ্ববিদ্যালয়ের গেইটে।
একটু দাঁড়াও, দাঁড়াতে হবে এবার।
তোমার দেয়া সেই ক্যাকটাস আজ বড় হচ্ছে এমাজনের মতন।
সবকিছু আছে আগেরকার মতন,
মাঝখানে শামসুন্নাহার হল -
শুধুই কবি তোমাকে ভালোবাসে
বিধায় পৃথিবী তোমাকে সময় দেয় নি একা থাকার, মাত্র পনেরোদিন।
তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা...
অভিনন্দন আরেকবার ...
তোমার জন্য থামিয়ে দেয়া হবে সকল স্তব্ধতা আর....
এর বেশি কিইবা পারে একজন কবি...
এযে দুহাতের ব্যর্থ দশটি আঙ্গুল চেপে ধরে রক্তের জুতো পরে,
নিজের বুকে থাকা তোমাকে বাঁচিয়ে,
লিখে গ্যাছে তোমায় অমর করতে, নিজ আয়ুতে ব্যর্থ কবিতা।
দেখো, শোনো বিউগলের শব্দ,
বাতাস দাঁড়িয়েছে সশস্ত্র মার্চপাষ্টে, এগুচ্ছে তোমার জানলায়।
অভিবাদন প্রিয়তমা,
অভিনন্দন তোমায়,
সকালের সূর্য তোমার পায়ে লুটোপুটি খাচ্ছে,
কর্তৃপক্ষ বলছে ব্যর্থতা জ্ঞাপনে
সুইসাইড নোট পালটে রিক্সা সদর দরোজায়,
বসে আছে, প্রথম মৃত্যুর দিন।
যা পাঠানো হয়েছে দুইশ তেত্রিশ কিলোমিটার দূর থেকে।
সকাল মিথ্যে বলেনি কোথাও কখনওই৷
