| কবিতা | পারমিতা সংসার |
| কবি | রাকিবুল হায়দার |
| সময় | ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ |
| লিখার স্থান | রামপুরা, ঢাকা |
| সম্পৃক্ততা | পারমিতা এবং প্রেম |
পারমিতা, ইথারে কান পেতো শোনো খবর, পৃথিবীর আয়ু কমে যাচ্ছে!
ভালোবাসা হয়ে যাচ্ছে ইতিহাস, তুমি-আমি দূরবর্তী সংকেতে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছি!
অথচ একদিন তোমার হাত এই মুঠোয় নিয়ে বলেছিলাম, এসো চুমু খাই,
বাড়িয়ে দেই এই পৃথিবীর আয়ু, মানুষের সমস্ত চলাচলে রাখি আমাদের পদচিহ্ন!
তুমি কি এক নির্লিপ্ততায় আমার ঠোঁটে তোমাকে সাজিয়ে দিয়েছিলে,
আমার কোলে মাথা রেখে মৃদু উচ্চারণে বলেছিলে, জীবন এতো সুন্দর-
জ্যোৎস্নার উঠোনে কারা যেনো রেখে গেছে অজস্র নিশিপদ্ম ফুল,
আর কি তার সুবাস! নিমিষেই মুছে নিচ্ছে সমস্ত ঘাম আর ক্লান্তি!
আমিও সেদিন কানপেতে রেখেছিলাম তোমার সেই সমস্ত ভ্রমরগুঞ্জণে!
আমাদের সুখ ছিলো পারমিতা, ছাদহীন এক সংসারে-
ঐ আকাশটাই ঢেকে দিয়েছিলো সমস্ত খুচরো পয়সার অভাব আর ভয়ের বাস্তবতা।
বেশি ছিলো আমাদের দিনগুলো, যেনো একটা রেলগাড়ি ছুটে যাচ্ছিলো চন্দ্রমল্লিকার বন ছুঁয়ে,
এক একটা বিকেল তার সুতোয় বুনে যাচ্ছিলো, অমর প্রেমের দিনলিপি!
তারপর একদিন আমাদের এই বাতাসের সংসারে ঝড় এলো, পারমিতা!
তুমি আঁকড়ে ধরতে চাইলে আমাকে, আমি ভয়ে তোমার হাত মুঠোয় আরও জোরে চেপে ধরলাম,
তুমি প্রচন্ড যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠলে, আর ওরা তোমাকে বললো-
মুঠো থেকে হাত সরিয়ে নাও, ব্যথা প্রশমিত হবে! তুমি ছিটকে গেলে আমার কাছ থেকে,
ওরা তোমাকে টেনে-হিচড়ে আমার কাছ থেকে দূরে আরও দূরে সরিয়ে নিলো,
আমার নামে একে একে সাতবার উচ্চারণ করলো মিথ্যে সব অপবাদ,
হাতের কালশিটে দাগের দিকে তাকিয়ে তখন তোমার কেবল ওদের কথাই বিশ্বাস হতো পারমিতা,
তুমিও গড়লে দেয়াল, যোগাযোগহীনতার অদ্ভুত সব আয়োজন।
তারপর অনেকদিন পর যখন সেই দাগ মুছে গেলো, তোমার হৃদয়ে থেকে সরে গেলো রূপকথার বরফকুঁচি,
ততদিনে তুমি-আমি যোজন যোজন দূরত্বে সরে গেছি, প্রতি অমাবস্যায় সেই দূরত্ব কেবল বাড়লোই!
পারমিতা, তোমার হৃদয়ের লাশঘরে রাখা আমার সুতীব্র প্রেম যেনো মমি হয়ে আছে,
বহুকাল পরে কোনো প্রেমিক পর্যটক তোমার হৃদয় পরিভ্রমণে গেলে-
তোমার হৃদয়ে রাখা এই আমাকে দেখে ভীষণ চমকে উঠবে! প্রচন্ড ভয়ে সে ছুটে পালাবে,
তুমিও আবার আমার মতো খুব একা হয়ে যাবে, আমরা একবুক ভালোবাসা নিয়ে বিলুপ্ত হয়ে যাবো!
